
বোমা আর কামানের গর্জনে যখন আকাশ প্রকম্পিত, তখন লেবাননের শ্রেণিকক্ষগুলো আজ নিস্তব্ধ। ইসরায়েলি আগ্রাসনের কবলে পড়ে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থা এখন ধ্বংসের কিনারে, যা দেশটিকে ঠেলে দিচ্ছে এক 'হারিয়ে যাওয়া প্রজন্মের' অন্ধকারের দিকে। বই-খাতা ফেলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখন আশ্রয়ের খোঁজে যাযাবর, আর তাদের স্কুলগুলো পরিণত হয়েছে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে।
বিপর্যস্ত শিক্ষা কাঠামো
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল এবং বৈরুতের শহরতলিতে চলমান সংঘাতের ফলে দেশটির শিক্ষা ক্যালেন্ডার পুরোপুরি তছনছ হয়ে গেছে। আল জাজিরার তথ্যমতে, শত শত সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অনেক স্কুল ভবন সরাসরি বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, আর যেগুলো অক্ষত আছে, সেগুলো এখন ঘরছাড়া মানুষের ভিড়ে ঠাসা।
শিক্ষার্থীদের মানসিক ও একাডেমিক সংকট
শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনার বাইরে থাকায় শিশুদের মধ্যে ব্যাপক মানসিক অবসাদ দেখা দিচ্ছে। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনলাইন শিক্ষা পদ্ধতিও লেবাননে কার্যত ব্যর্থ। উচ্চশিক্ষারত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তায় ঘেরা; অনেকের চূড়ান্ত পরীক্ষা এবং ডিগ্রি অর্জনের পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে।
এক প্রজন্মের অপূরণীয় ক্ষতি
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই যুদ্ধ শুধু বর্তমানকে কেড়ে নিচ্ছে না, বরং লেবাননের ভবিষ্যৎ জনশক্তিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী বিরতির ফলে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। সিরিয়া সংকটের রেশ কাটতে না কাটতেই লেবাননের নিজস্ব শিক্ষার্থীদের এই দশা দেশটিকে এক চরম সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, লেবাননের শিশুদের শিক্ষার অধিকার রক্ষা করা এখন একটি জরুরি বৈশ্বিক দায়িত্ব। ইসরায়েলের এই সামরিক অভিযানের ফলে লেবাননের যে ক্ষতি হচ্ছে, তার মধ্যে সবচেয়ে অপূরণীয় হলো শিশুদের মেধার অপচয়। বিশ্ব সম্প্রদায় যদি দ্রুত এই যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি কয়েক দশক পিছিয়ে যেতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা।