
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে গভীর রাতে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে রক্তক্ষয়ী এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনায় ইতোমধ্যে দুইজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং কমপক্ষে ২৫ জন যাত্রী কমবেশি জখম হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত ১২টা নাগাদ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রাগদি নামক স্থানে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিরা হলেন— পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আমিরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা অমলেন্দু হাওলাদারের ছেলে অমিতাভ হাওলাদার এবং শেরপুর জেলার আব্দুস সামাদের সন্তান কালাম (৩০)।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকামুখী একটি বিআরটিসি (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন) বাস হঠাৎ চালকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাগদি ব্রিজের সঙ্গে ধাক্কা খায়। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির 'হিমেল সীমান্ত পরিবহন' নামের আরেকটি যাত্রীবাহী বাস বিআরটিসি বাসটিকে সজোরে সজিল ধাক্কা দিলে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আকস্মিক এই ঘটনার পরপরই হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং স্থানীয় জনতা দ্রুত উদ্ধারকাজে নামেন। তাঁরা আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান। আহতদের মধ্যে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে ঢাকা থিয়েটারে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া চিকিৎসাধীন আরও এক যাত্রীর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল খান দুর্ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, "দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হয়েছে এবং নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।"
এদিকে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার জেরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টা যাবত সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে রাস্তা থেকে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি ক্রেন দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হলে ওই রুটে পুনরায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।