
বাংলাদেশি পাসপোর্টের ভ্রমণক্ষমতা আন্তর্জাতিকভাবে আবারও নীচু পর্যায়ে রয়েছে। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স ২০২৬ অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই মাত্র ৩৭টি দেশে প্রবেশ করতে পারেন, যা একে বিশ্বের সপ্তম দুর্বল পাসপোর্টের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
জানুয়ারি মাসের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ১০১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৫তম। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনারস এই তালিকা প্রকাশ করেছে। আগের সংস্করণে বাংলাদেশ ১০০তম অবস্থানে ছিল এবং তখনও এটি বিশ্বের সপ্তম দুর্বল পাসপোর্টের মধ্যে ছিল। যদিও অবস্থান সামান্য উন্নীত হয়েছে, বাস্তবে ভিসা-মুক্ত ভ্রমণের সুবিধা তেমন বাড়েনি।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিচ্ছিন্ন দেশ উত্তর কোরিয়া ও যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের নাগরিকরা যৌথভাবে ৩৮টি দেশে ভিসা ছাড়া যেতে পারলেও, বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা-মুক্ত গন্তব্যের সংখ্যা কেবল ৩৭। এ কারণে বাংলাদেশ এই দুই দেশের থেকেও পিছিয়ে রয়েছে।
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সে মোট ১০১টি অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে কিছু অবস্থানে একাধিক দেশকে স্থান দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় ২০২৬ সালে শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা ১৯২টি দেশে ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারেন। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যথাক্রমে দ্বিতীয় স্থানে, যাদের ভিসা-মুক্ত দেশে যাওয়ার সংখ্যা ১৮৮টি। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইউরোপের পাঁচটি দেশ - ডেনমার্ক, লুক্সেমবার্গ, স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড, যাদের নাগরিকরা ১৮৬টি দেশে ভিসা ছাড়াই যেতে সক্ষম।
অন্যদিকে, তালিকার সর্বনিম্ন পাঁচটি অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন ও পাকিস্তান।
দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট মালদ্বীপের, যা ৫২তম স্থানে রয়েছে এবং তার নাগরিকরা ৯২টি দেশে ভিসা ছাড়া যেতে পারেন। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ভারত (৮০তম, ৫৫টি দেশ), ভুটান (৮৫তম, ৫০টি দেশ) এবং শ্রীলঙ্কা (৯৩তম, ৩৯টি দেশ)। বাংলাদেশ এই অঞ্চলে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের পরে রয়েছে নেপাল (৯৬তম, ৩৫টি দেশ), পাকিস্তান (৯৮তম, ৩১টি দেশ) এবং আফগানিস্তান (১০১তম, ২৪টি দেশ)।
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স বিশ্বের একমাত্র সূচক যা ২০ বছরের ঐতিহাসিক তথ্য এবং ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ)-এর একচেটিয়া তথ্য ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। এতে বিশ্বের ১৯৯টি পাসপোর্ট এবং ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে পাসপোর্টের শক্তি বা ভ্রমণ স্বাধীনতা পরিমাপের সবচেয়ে প্রামাণ্য সূচক হিসেবে গণ্য করা হয়।