
বিয়ে মানেই তো বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে হইচই আর ভূরিভোজ। কিন্তু সেই চিরচেনা নিয়ম ভেঙে সবাইকে লুকিয়ে এক বন্ধু চুপিসারে বিয়ের পিঁড়িতে বসায় রীতিমতো রাজপথে নেমে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছে তার ক্ষুব্ধ বন্ধুরা। ‘টাকা লাগলে টাকা নিতি, তাও বন্ধুদের দাওয়াত দিতি’—এমনই এক মজার ও ব্যতিক্রমী স্লোগান মুখে নিয়ে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট সংলগ্ন ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এক মিছিল ও মানববন্ধনের আয়োজন করে একদল তরুণ।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে এসএসসি ২০১৫ ব্যাচের একঝাঁক বন্ধু হাতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে তাদের প্রিয় বন্ধু শাকিল শেখের এই ‘গোপন বিয়ে’র বিরুদ্ধে এক অভিনব বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয়।
আন্দোলনরত বন্ধুদের অভিযোগ, তাদের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ও প্রাণের বন্ধু শাকিল শেখ কাউকে বিন্দুমাত্র আভাস না দিয়ে চুপিচুপি বিয়ে সেরে ফেলেছে। এমনকি বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে যখন সে পুরোদমে ঘর-সংসার সাজাতে ব্যস্ত, ঠিক তখন বন্ধুরা এই খবরটি জানতে পারে। এই আনন্দ অনুষ্ঠান থেকে বঞ্চিত হয়ে বন্ধুদের মনে ক্ষোভ আর অভিমানের পাহাড় জমে।
মহাসড়কে ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদী বন্ধুরা বলেন, বন্ধুত্বের অকৃত্রিম সম্পর্কে কোনো ধরনের লুকোচুরি কিংবা গোপনীয়তা থাকতে পারে না। এভাবে একা একা বিয়ে করে সে পবিত্র বন্ধুত্বের অমর্যাদা করেছে, আর সে কারণেই তারা আজ রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
ব্যস্ততম মহাসড়কের পাশে এমন হাস্যরসাত্মক ও ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ দেখে পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং যানবাহনের যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। অনেকেই কৌতুহলবশত গাড়ি থামিয়ে এই মজার দৃশ্যটি উপভোগ করেন এবং মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। দেখতে দেখতেই এই ‘বন্ধুদের বিক্ষোভ’ পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের জন্ম দেয়।
তবে বন্ধুদের এই আন্দোলন বা ক্ষোভ ছিল মূলত নিখাদ ভালোবাসা ও অভিমান থেকে। তীব্র প্রতিবাদের পর্ব শেষ হতেই তারা তাদের প্রিয় বন্ধু শাকিলের নতুন দাম্পত্য জীবন যেন সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে, সেই শুভকামনা জানিয়ে দোয়া করেন।
এই ব্যতিক্রমী মানববন্ধনে শাকিলের স্কুলজীবনের বন্ধু আয়নাল, মিশকাত, আলামীন, আশিক, সোহেল, মামুনসহ স্থানীয় আরও অনেক বন্ধু-বান্ধব ও সহপাঠী উপস্থিত ছিলেন।