
ভজন গায়ক মনের আনন্দে গান গাইছেন, আর তাঁর চারপাশে আছড়ে পড়ছে লাখ লাখ টাকার নোটের ঢেউ। দেখতে দেখতে টাকার স্তূপ এতটাই বিশাল আকার ধারণ করল যে, গায়ক নিজেই সেই নোটের পাহাড়ের নিচে প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেলেন! ভারতের গুজরাটের জুনাগড় জেলার খাম্ভালিয়া গ্রামে ঐতিহ্যবাহী ‘দাইরো’ (লোকসংগীতের আসর) অনুষ্ঠানে এমনই এক অবিশ্বাস্য ও চোখ ধাঁধানো দৃশ্য দেখা গেছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। সেখানে ভজন সংগীতশিল্পী গোপাল সাধু যখন হারমোনিয়াম বাজিয়ে সুরের মূর্ছনায় মগ্ন ছিলেন, ঠিক তখনই আবেগাপ্লুত শ্রোতা ও ভক্তরা তাঁর ওপর দুহাত উজার করে লাখ লাখ রুপির নোট ছিটানো শুরু করেন।
অবিচল গায়ক ও নেট দুনিয়ায় তোলপাড়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চারপাশের এই তুমুল হুলস্থুল ও টাকার বৃষ্টির মধ্যেও গায়ক গোপাল সাধু বিন্দুমাত্র মনোযোগ হারাননি। টাকার সুউচ্চ স্তূপের নিচে রীতিমতো চাপা পড়ার উপক্রম হলেও তিনি অত্যন্ত অবিচল থেকে অবলীলায় হারমোনিয়াম বাজিয়ে নিজের ভজন পরিবেশন করে গেছেন। ইন্টারনেটের দুনিয়ায় ভিডিওটি আসার পরপরই তা বিদ্যুৎ গতিতে ভাইরাল হয়ে যায়।
এই অদ্ভুত দৃশ্য দেখে নেটিজেনরা নানামুখী মন্তব্য করছেন। কেউ রসিকতা করে লিখেছেন, 'এটাই আসল ওয়ার্ক ফ্রম হোম—বসে থাকো, আর টাকার বৃষ্টিতে ভিজো।' আবার গায়কের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন, টাকার ওই বিশাল স্তূপের নিচে চাপা পড়ে শিল্পী ঠিকঠাক শ্বাস নিতে পারছিলেন তো? অন্য এক ব্যবহারকারী আবার আশা প্রকাশ করে লিখেছেন, ওড়ানো এই অর্থের একটি বড় অংশ যেন অন্তত অসহায় ও দুস্থ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হয়।
গুজরাটের পুরনো রেওয়াজ ও জনকল্যাণ
পশ্চিমাঞ্চলীয় এই রাজ্যে লোকসংগীতের আসরে এভাবে টাকা ওড়ানো বা ‘নোট বৃষ্টি’ হওয়া অবশ্য একেবারেই নতুন কিছু নয়। এর আগেও ২০২৩ সালে ভালসাদ জেলায় বিখ্যাত গায়ক কীর্তিদান গাধভিরের একটি অনুষ্ঠানে ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ রুপির নোটের বন্যা বয়ে গিয়েছিল। তারও আগে, ২০২২ সালের ডিসেম্বরের নভসারিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এই একই শিল্পীর ওপর প্রায় ৫০ লাখ রুপি ওড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০১৭ ও ২০১৮ সালেও গুজরাটের এমন কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল।
স্থানীদের দাবি ও আঞ্চলিক ঐতিহ্য অনুসারে, এসব লোকসংগীতের আসরে ভক্তদের দেওয়া বা ওড়ানো সমস্ত অর্থ কোনো ব্যক্তিবিশেষের পকেটে যায় না। সংগৃহীত এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সাধারণত স্থানীয় বিভিন্ন মন্দির পরিচালনা, সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড কিংবা জনকল্যাণমূলক সামাজিক প্রজেক্টে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।