
বিকল্প পুনর্বাসন ও জীবিকার ব্যবস্থা না করে ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন হকার নেতারা। উচ্ছেদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে আর কোনো হকারকে গ্রেপ্তার করা হলে সংশ্লিষ্ট থানা ঘেরাও করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে উচ্ছেদবিরোধী আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সহস্রাধিক হকার অংশ নেন।
সমাবেশে হকার প্রতিনিধিরা বলেন, টানা এক মাস ধরে উচ্ছেদ অভিযান চলায় হাজারো হকার পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবসা বন্ধ থাকায় অনেক পরিবারে খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে। সন্তানদের পড়াশোনার খরচ, স্কুলের বেতন ও পরীক্ষার ফি দেওয়ার পাশাপাশি এনজিও ও ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ফুটপাতে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তারা। পাশাপাশি হকার ইউনিয়নের ১২ দফা দাবির ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান এবং বিকল্প বসার ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখার আহ্বান জানান হকার নেতারা।
তারা বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের হাতিয়ার হওয়া নয়, স্বাধীনভাবে ব্যবসা করে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাই তাদের লক্ষ্য। নিয়মিত কর দেওয়া পণ্য বিক্রির মাধ্যমে হকাররা দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখছেন। তারা এ দেশের নাগরিক। তাই উচ্ছেদের আগে তাদের জীবিকা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের উপযোগী রাখার পাশাপাশি হকারদের জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করার আহ্বান জানান আন্দোলনকারীরা।
হকার্স ইউনিয়নের উপদেষ্টা জলি তালুকদার বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে শ্রমজীবী হকারদের অবদান ও আত্মত্যাগ রয়েছে। অথচ উচ্ছেদের নামে তাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হচ্ছে। হকারদের অনাহারে রেখে কিংবা জোর করে উচ্ছেদ করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত হকারদের ব্যবসার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। বিকল্প হিসেবে হকার ইউনিয়নের ১২ দফা দাবির আলোকে ফুটপাত ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনারও আহ্বান জানান তিনি।
পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং হকারদের জীবিকা নিশ্চিত করতে দ্রুত তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানান জলি তালুকদার। অন্যথায় সুশৃঙ্খল আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি হকারদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মিরপুরের হকার নেতা নাসির বলেন, বিকল্প বসার ব্যবস্থা না করে হকারদের উচ্ছেদ করে অনাহার-অর্ধাহারে রাখা অমানবিক। হকাররা রাষ্ট্র বা সরকারবিরোধী নন। তাই তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত নিয়ম মেনে সুশৃঙ্খলভাবে ফুটপাতে ব্যবসা করার সুযোগ দিতে হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হকারদের পরিবারের রুটি-রুজি এবং সন্তানদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখার স্বার্থে মানবিক বিবেচনায় তাদের বসার অনুমতি দেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, উচ্ছেদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে সাতজন হকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা।