
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) কার্যালয়ে নিলামের দরপত্র বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই যুবদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও নীতি-আদর্শ বিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার দায়ে বুধবার (৬ মে) সকালে রাজশাহী মহানগর যুবদল এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন— নগরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড (দক্ষিণ) যুবদলের আহ্বায়ক মো. ধলু এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. আজিজুল ইসলাম।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সিসিটিভি ফুটেজ
মঙ্গলবার (৫ মে) আরডিএ কার্যালয়ে অকেজো মালামাল বিক্রির নিলাম চলাকালে পুলিশের উপস্থিতিতেই দরপত্র বাক্স ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। ভবনের ভেতর দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পর এই দুই নেতার সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, "সিসিটিভি ফুটেজে তাদের সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। তাই কারণ দর্শানোর নোটিশের অপেক্ষা না করে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।"
কারণ দর্শানোর নোটিশ ও চূড়ান্ত ব্যবস্থা
উল্লেখ্য, ঘটনার দিনই (মঙ্গলবার) এই দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের কাছে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিল। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের আগেই তাদের বহিষ্কার করা হয়।
রাজশাহী মহানগর যুবদলের সদস্য (দপ্তরে সংযুক্ত) মাসুদুল হক মৃধা মোমিন স্বাক্ষরিত বহিষ্কার আদেশে জানানো হয়েছে যে, আরডিএ-র টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা তৈরি এবং সংগঠনের ইমেজ ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে তাদের এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, "বহিষ্কৃতদের কোনো কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না।"
যা ঘটেছিল আরডিএ ভবনে
বুধবার সকালে আরডিএ ভবনে অব্যবহৃত মালামাল বিক্রির জন্য দরপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ একদল যুবক দরপত্র বাক্সটি ছিনিয়ে নেয়। কয়েক মিনিট পর ভবনের চতুর্থ তলা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় বাক্সটি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপুর পর্যন্ত ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
একটি প্রাসঙ্গিক ফলো-আপ প্রশ্ন: আপনি কি এই ঘটনার প্রশাসনিক তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপের আপডেটগুলো জানতে চান?