
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন অন পাওয়ার, ইলেকট্রনিকস, কমিউনিকেশনস, কম্পিউটিং অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার শুরু হয়েছে।
এতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের গবেষক, বিজ্ঞানী, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছেন।
সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস, পাওয়ার ও এনার্জি সিস্টেম, যোগাযোগ প্রযুক্তি, নেটওয়ার্ক ও নিরাপত্তা, স্মার্ট প্রযুক্তি অবকাঠামো এবং অ্যাডভান্সড ইলেকট্রনিকস, ভিএলএসআই ও এমবেডেড সিস্টেমসহ সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।
বুধবার (১৭ জুন) প্রথম দিনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাপানের আইজু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জুংপিল শিন। প্রথম দিনে শতাধিক গবেষক ১৮০টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। দুই দিনে মোট ৩৯টি সেশনে ৩০৮টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে শিক্ষার উন্নয়ন, মানবসম্পদের মানোন্নয়ন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দক্ষতার ওপর। সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা খাতে ৫৬ শতাংশ বাজেট বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি আয়ের উৎস তৈরির সুযোগ বাড়াতে স্মার্ট সিটি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য এবার প্রথম বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। উদ্ভাবনী শক্তির মাধ্যমে সরকারের সফলতা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এই ধরনের সম্মেলনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি গবেষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থী-গবেষকদের সেতুবন্ধন তৈরি হবে। শিক্ষার্থীরা নতুন গবেষণায় উদ্বুদ্ধ হবেন। শিক্ষার টেকসই উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কাজ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সম্মেলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, জ্ঞান সৃষ্টির প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষিত করাই নয়, সামাজিক প্রতিবন্ধকতার সমাধান করাও। মানবজাতি অভূতপূর্ব রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই রূপান্তরে বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করতে হবে। নবীন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গবেষণার এই পরিবর্তনের সঙ্গে কাজ করার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে। গবেষণা কৌতূহল থেকে শুরু হয়, সহযোগিতার মাধ্যমে তা বিকশিত হয় এবং প্রভাব সৃষ্টি করে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের সম্মেলনের মাধ্যমে অভিজ্ঞ গবেষকদের সঙ্গে তরুণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতবিনিময়ের মূল্যবান সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এখান থেকে গবেষণার নতুন ধারণা, দিকনির্দেশনা ও মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীরা আরও বেশি অনুপ্রাণিত হবেন।
ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান, বুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ আনোয়ারুল ফাত্তাহ, অধ্যাপক ড. সিলিয়া শাহনাজ, অধ্যাপক ড. মো. ইমামুল হাসান ভুঁইয়া এবং সম্মেলন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসেন।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার সম্মেলনের দ্বিতীয় তথা সমাপনী দিনে শতাধিক দেশি-বিদেশি গবেষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।