
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ছাত্রদল এবং ছাত্র শিবিরের টানা দুদিনের সংঘর্ষের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে উপাচার্যের সাথে ছাত্রদল এবং ছাত্র শিবির সভাপতি বৃক্ষরোপণ।
আজ বুধবার (১৬ জুলাই) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর শওকাত আলী আনন্দ শোভাযাত্রা শেষে বৃক্ষরোপণ করেন, যেখানে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল সভাপতি রাফায়াল ইমতিয়াজ ইয়ামিন ও শিবির সভাপতি রাকিব মুরাদ। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ছবিকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা সমালোচনার জন্ম নিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এআইএস বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর হাসান দিপু বলেন, রাজনীতিতে একটা কথা আছে শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু, সেটারই বাস্তবতা দেখতে পারছি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুনাফেক ভিসির উচিৎ রাজনীতি বন্ধ ক্যাম্পাসে এমন সহিংসতা যারা করল তাদের শাস্তির আওতায় আনা।কিন্তু আমরা দেখলাম তার বিপরীত মনে হচ্ছে মুনাফেক ভিসি তাদের বুকে টেনে নিলেন।
আরেক শিক্ষার্থী সবুর বলেন, ছবি দেখে যা মনে হচ্ছে আপনারা ছাত্রদল-ছাত্রশিবির একসাথে এগিয়ে যেতে চাচ্ছেন। এটাই হলে শুভকামনা কিন্তু দুদিন যে নোংড়ামি করলেন তার দায়ভার কে নিবে? আপনারা যে একদল আরেকদলকে আঘাত করে রক্ত ঝরালেন। অস্ত্রপাতি এনে ক্যাম্পাসে ও তার আশেপাশে আতঙ্ক সৃষ্টি করলেন তার দায়ভার কে নিবে? আবার ভাবুন যদি কেউ একজন এই মারামারিতে মারা যেতেন তবে কী করতেন? আর এই ঘটনায় সদ্য আসা জুনিয়রেরা বা দেশবাসী কী ভাবলো, ভেবে দেখেছেন? আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী আপনাদের রাজনৈতিক তাল বুঝতে পারছিনা তবে আমরা নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই। আপনারা বাইরে যেয়ে মারামারি কাটাকাটি করেন তাতে আমাদের বাঁধা নেই।
বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী শাহ আল আমিন বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে "রাজনীতি নিষিদ্ধ"—এটি যেন শুধু মুখের কথা। বাস্তবে রাজনৈতিক সংঘর্ষ, দেশীয় অস্ত্রের মহড়া ও উত্তেজনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, ক্লাস-পরীক্ষা এবং স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বারবার বিঘ্নিত হচ্ছে। সংঘর্ষের পরও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা চায়—রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব একটি ক্যাম্পাস; আর সেই দায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকেই।
ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইদুল ইসলাম, ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুক পোস্টে লিখেন, এই ছিলো মনে! তাহলে এতো নাটকের কি দরকার ছিলো? দল-মুনাফেক-ফ্যাসিস্ট সব একসাথে।
এদিকে ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেম জীম বলেন, আজকের এই প্রোগ্রামটা বিশ্ববিদ্যালয় সকল শিক্ষার্থীদের। এখানে দলীয় পরিচয় মুখ্য নয়। চাইলে যে কেউ শিক্ষার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করতে পারে। তাই এখানে দলীয় পরিচয়ে নং বরং শিক্ষার্থী হিসেবে তারা অংশ নিয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শিবিরের দপ্তর সম্পাদক শিবলি সাদিক বলেন, ছাত্রশিবির সবসময় ক্যাম্পাসগুলোতে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির রাজনীতির বাইরে গিয়ে সহনশীলতা ও সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। ৩ আগস্ট আমাদের কর্মসূচিতে এসে ছাত্রদল আমাদের বিরুদ্ধে মব তৈরি করে এবং আমাদের কয়েকজন ভাইকে আহত করে। এর প্রতিরোধই আমরা গড়ে তুলেছিলাম।
তিনি আরও বলেন, গতকাল আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির স্থানে ছাত্রদল জোরপূর্বক কর্মসূচি পালন করায় আমরা সংঘাত এড়াতে আমাদের কর্মসূচির স্থান পরিবর্তন করি। আমরা যেহেতু সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাসী, তাই আজকের এই দৃশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করবে বলে আমি মনে করি।