
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) গতকাল ছাত্রদল ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের হামলার ঘটনায় জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কারসহ ৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্রশক্তি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।
সমাবেশে ছাত্রশক্তির নেতারা 'ছাত্রদলের চেহারায়, ছাত্রলীগ দেখা যায়' সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
জাতীয় ছাত্রশক্তির জবি শাখার সভাপতি শাহিন মিয়া বলেন,"কালকে প্রশাসনের ইন্ধনে আমাদের উপর ছাত্রদল হামলা করেছে। সেখানের ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ ও সংগঠক জাবির খান, জকসুর জিএস এজিএস সহ ৬০ এর অধিক শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন নেতাকর্মী ছাত্রদলের হামলায় আহত হয়েছেন। এই হামলার দায় শুধু ছাত্রদলের একার নয় এর পিছনে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনও রয়েছে।"
শাহিন মিয়া বলেন,"কালকে ক্যাম্পাসে জুলাই গনঅভ্যুত্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে প্রোগ্রাম আয়োজন করেছিল সেখানে ইউজিসির চেয়ারম্যানের কাছে আমাদের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কিছু দাবি তার কাছে তুলে ধরতে চেয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন সেখানে আমাদের বাধা দেয়। কিন্ত আমরা প্রশাসনের বাধা না মেনে আমাদের কর্মসূচি পালন করলে প্রশাসন তাদের পোষা সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্রদল দিয়ে আমাদের উপর হামলা করেছে।"
তিনি আরও বলেন," এই সন্ত্রাসী ছাত্রদল বাহিনী ক্যাম্পাসে যত ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন ও সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য সংগঠন আছে সবার উপর হামলা করেছে।"
তিনি হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এবং হামলাকারীদের বিচার চেয়েছেন।
শাহিন মিয়া বলেন,"কালকে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা বলেছেন এটা আমাদের ছাত্রদলের ক্যম্পাস। আমি তাদের উদ্দেশ্য বলব এই ক্যাম্পাস ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর ক্যাম্পাস। এই ক্যাম্পাস ছাত্রদলকে লিখে দেওয়া হয় নাই।"
তিনি ছাত্রদলকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন," আপনারা ছাত্রলীগ হওয়ার চেষ্টা করতেছেন। যদি ছাত্রলীগ হয়ে যান তাহলে ছাত্রলীগের মতো আপনাদের ও একই অবস্থা হবে।"
ছাত্রশক্তির জবি শাখার সাধারন সম্পাদক ফেরদৌস শেখ বলেন,"পূর্বে ফ্যাসিস্ট সরকার সরকার তাদের পোষা ছাত্রলীগ দিয়ে ক্যাম্পাস দখলে রেখেছিল দীর্ঘ ১৭ বছর। একই ভাবে বর্তমান সরকার ছাত্রদলের মাধ্যমে ক্যাম্পাস দখলে নিয়ে ফ্যাসিস্ট হতে চাইতেছে।"
তিনি ছাত্রদলকে উদ্দেশ্য করে বলেন,"আপনারা আপনাদের অতীত ভুলে যাবেন না। আমরা জুলাই পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে কারো দখলে যেতে দিব না। বিশ্ববিদ্যালয় কারোর বাপ দাদার সম্পত্তি না। আপনারা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালান তাহলে আপনাদেরকেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হবে।"
ফেরদৌস শেখ আরও বলেন,"কালকের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রদল একই সাথে জড়িত। এবং তিনি কালকের ঘটনার জন্য ৬ দফা দাবি পেশ করেন। দাবি গুলো হলো:
১. গতকালের হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে।
২. ৭ একরের মধ্যে অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
৪. ক্যাম্পাসে অসৎ ছাত্রদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।
৫. বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. আগামীকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে হবে।