
হঠাৎ এক সন্ধ্যায় পর্ন সাইটে ঢুকে জীবনের ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি হন এরিক (ছদ্ম নাম) নামে এক তরুণ। পরিচিত সেই ওয়েবসাইটেই নিজের ও প্রেমিকার গোপন মুহূর্তের ভিডিও দেখে মুহূর্তে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি—এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের এক সন্ধ্যায় একটি পর্ন সাইটে ক্লিক করেই বিস্ময়ে হতবাক হন এরিক। সেখানে তিনি দেখতে পান, একটি ভিডিওতে নিজেই রয়েছেন তিনি এবং তার গার্লফ্রেন্ড।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দক্ষিণ চীনের শেনঝেন শহরের একটি হোটেলে প্রেমিকা নিয়ে অবস্থান করেছিলেন এরিক। সেখানে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে স্পাই ক্যামেরায় ধারণ করা হয় এবং পরে সেই ভিডিও পর্ন সাইটে প্রকাশ করা হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, এরিক ও তার গার্লফ্রেন্ড হোটেল রুমে প্রবেশ করছেন, সঙ্গে থাকা ব্যাগ নিচে রেখে সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু তাদের অজান্তেই পুরো ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করা হয়।
এই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বিবিসিকে এরিক বলেন, গোপন স্পাই ক্যামেরার মাধ্যমে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত রেকর্ড করা হয়েছে।
এরিক আরও জানান, বিষয়টি প্রথমে প্রেমিকাকে জানালে তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি। পরে নিজে পর্ন সাইটে ঢুকে ভিডিওটি দেখার পর তার প্রেমিকাও গভীর আতঙ্কে ভেঙে পড়েন।
এই ঘটনার পর কয়েক সপ্তাহ তারা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রেখেছিলেন। ল্যাডবাইবেলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাইরে বের হলে দুজনই ক্যাপ পরে চলাফেরা করেন, যাতে কেউ তাদের চিনতে না পারে।
বিবিসি জানিয়েছে, এরিক একা নন। চীনের বিভিন্ন হোটেলে গিয়ে এভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বহু তরুণ-তরুণী। স্পাই ক্যাম পর্ন ব্যবসার গ্রাহক থেকে রাতারাতি অনেকেই ভুক্তভোগীতে পরিণত হয়েছেন এবং এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চীনে স্পাই ক্যাম পর্ন ব্যবসা সক্রিয় রয়েছে। যদিও দেশটিতে পর্নোগ্রাফি উৎপাদন ও বাণিজ্যিক বিতরণ নিষিদ্ধ, তবুও বিভিন্ন হোটেল কক্ষে গোপন ক্যামেরা স্থাপন করে অতিথিদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধারণ করার অভিযোগ রয়েছে। পরে সেগুলো অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এমনকি কিছু পর্ন সাইটে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানায় বিবিসি। হোটেল কক্ষে অতিথিরা প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই এসব ক্যামেরা চালু হয়ে যায়।