
চট্টগ্রাম বন্দরে দুই দিনের কর্মবিরতি স্থগিত রাখার পর রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ফের অনির্দিষ্টকালের জন্য লাগাতার ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এবারের কর্মসূচিতে বন্দরের বহির্নোঙরেও কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি কার্যকর হলে পুরো বন্দর অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বন্দর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। একই দিন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের নেতা হুমায়ন কবীর লিখিত বক্তব্যে চার দফা দাবি তুলে ধরেন এবং আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলসহ চার দফা দাবিতে এ আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ না দেওয়ার বিষয়ে সরকারিভাবে ঘোষণা দেওয়া, বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া।
আন্দোলনের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন বলেন, নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বৃহস্পতিবারের বৈঠকে দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, বন্দর চেয়ারম্যান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছেন। এই পরিস্থিতিতে আবার লাগাতার কর্মসূচিতে যাওয়া ছাড়া তাদের কোনো বিকল্প ছিল না।
সংগ্রাম পরিষদের নেতারা জানান, আন্দোলন শুরুর পর গত কয়েকদিন বন্দরের বহির্নোঙরের কার্যক্রম কর্মবিরতির আওতার বাইরে ছিল। তবে রোববার থেকে ঘোষিত ধর্মঘটে বহির্নোঙরেও কোনো কাজ হবে না।