
ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ তীব্র হয়ে উঠেছে। তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় মেয়াদে পদত্যাগ বা অপসারণের জোর দাবি তুলেছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা।
‘একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা আজ রাতে মারা যাবে’—এমন মন্তব্যের জেরে মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ অথবা অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।
কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জন লারসন মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিশংসনের প্রস্তাব জমা দেন। তার বিবৃতিতে বলা হয়, পুরো একটি সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি এবং ইস্টার সানডেতে দেওয়া অসংলগ্ন বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে এবং তা ‘যুদ্ধাপরাধের’ পূর্বাভাস বহন করে।
ডেমোক্র্যাট নেতাদের অভিযোগ, ট্রাম্পের মানসিক স্থিতিশীলতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে। সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেন, মন্ত্রিসভা যদি ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়, তাহলে রিপাবলিকানদের উচিত দ্রুত কংগ্রেস অধিবেশন ডেকে যুদ্ধ বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া।
একই সুরে সিনেটর এড মার্কি বলেন, ট্রাম্প এখন বিশ্ববাসীর জন্য ‘স্পষ্ট ও বর্তমান বিপদ’। যদিও কংগ্রেসের দুই কক্ষই বর্তমানে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে, তবুও ডেমোক্র্যাটরা আশা করছেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে অভিশংসন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে পারবেন।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের অবস্থানকে সমর্থন করেছে। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেন, প্রেসিডেন্টের কঠোর অবস্থানের কারণেই ইরান শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়েছে। তবে প্রগতিশীল কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর ট্রাম্পকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭০ জনের বেশি আইনপ্রণেতা এখন ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
বিস্ময়করভাবে, একসময় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত রিপাবলিকান নেত্রী মার্জোরি টেইলর গ্রিনও এবার তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, ‘আমরা একটি আস্ত সভ্যতাকে হত্যা করতে পারি না, এটি চরম উন্মাদনা ও শয়তানি।’
এছাড়া ডানপন্থী প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব টাকার কার্লসন ও অ্যালেক্স জোনসও ট্রাম্পের যুদ্ধ নীতির সমালোচনা করেছেন। এর জবাবে ট্রাম্প কার্লসনকে ‘নিম্ন বুদ্ধিসম্পন্ন’ বলে মন্তব্য করেন।
যদিও রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস বা ট্রাম্পের মনোনীত মন্ত্রিসভায় ২৫তম সংশোধনী কার্যকর হওয়া কঠিন, তবুও অভ্যন্তরীণ এই চাপ তার দ্বিতীয় মেয়াদের শাসনকে বড় সংকটে ফেলেছে।
উল্লেখ্য, বুধবার (৮ এপ্রিল) দীর্ঘ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: স্পেক্ট্রাম নিউজ