
সাম্প্রতিক ভোটকোশী নদীর ভয়াবহ বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সংবাদ সংগ্রহে থাকা দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য নির্দেশনা জারি করেছে নেপাল সরকার। বিদেশি সাংবাদিকদের প্রেস পাস পেতে পাসপোর্ট, বৈধ ভিসা, সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের নিয়োগপত্র বা চুক্তিপত্রসহ বেশ কিছু অতিরিক্ত নথি জমা দিতে হবে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে নেপালভিত্তিক সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন তথ্য প্রশাসন বিভাগ ও প্রেস শাখার নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশি সাংবাদিকদের নিজ নিজ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সুপারিশপত্রের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অথবা নেপালে অবস্থিত দূতাবাস বা কনস্যুলার অফিসের সুপারিশপত্রও জমা দিতে হবে।
তবে তথ্য বিভাগের মুখপাত্র গোবিন্দ প্রসাদ পান্ডে জানিয়েছেন, এটি কোনো নতুন নীতি বা ব্যবস্থা নয়। প্রেস পাস দেওয়ার প্রক্রিয়াটি বিভাগের দীর্ঘদিনের নিয়মিত কার্যক্রম। ছাপাখানা ও সম্প্রচারসংক্রান্ত প্রবিধান ও কার্যপ্রণালির আওতায় নেপালে কাজ করা বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই বিধানই অব্যাহত রাখা হয়েছে।
গত বুধবার ভোরে ভোটকোশী নদীতে ভয়াবহ বন্যার পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছেছেন।
সরকারি একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান দুর্যোগের সংবাদ কাভারেজ আরও সুশৃঙ্খল করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এটি কোনো স্থায়ী নিয়ম নয়। বিদেশি সাংবাদিকদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্রের পাশাপাশি বেতন ও ভাতার বিস্তারিত তথ্যও জমা দিতে হবে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন অনুমোদিত হলে দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সশরীরে তথ্য বিভাগে উপস্থিত হয়ে প্রেস প্রতিনিধি সনদ ও সাংবাদিক পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে।
মুখপাত্র গোবিন্দ প্রসাদ পান্ডে জানান, সংবাদ সংগ্রহের জন্য নেপালে আসা বিদেশি সাংবাদিকদের যেন কোনো ধরনের অপেক্ষা বা ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে জন্য সরকারি ছুটির দিনেও তথ্য বিভাগের কার্যালয় খোলা থাকবে এবং সেবা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, যেসব বিদেশি সাংবাদিক ইতোমধ্যে নেপালে অবস্থান করছেন কিন্তু এখনো প্রেস পাস নেননি, তাদের সংবাদ সংগ্রহ শুরুর আগে অবশ্যই প্রেস পাস সংগ্রহ করতে হবে। প্রেস পাস ছাড়া কেউ প্রতিবেদন তৈরি করলে সেটি বৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে না এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি বলে গণ্য করা হবে।
অন্যদিকে, নেপালি সাংবাদিকদেরও প্রেস প্রতিনিধি সনদ বা সাংবাদিক পরিচয়পত্রের জন্য তথ্য বিভাগের ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে নাগরিকত্ব সনদের কপি, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপত্র ও প্রেস প্রতিনিধি সনদের জন্য প্রতিষ্ঠানের সুপারিশপত্র জমা দিতে হবে।
এ ছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নবায়ন বা হালনাগাদের সনদ, অঙ্গীকারনামা এবং নিয়মিত বেতন ও ভাতা পাওয়ার প্রমাণ হিসেবে ব্যাংক বিবরণীও জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নেপালে কর্মরত বিদেশি সাংবাদিকদের তদারকি ও তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় হিসাব রাখার লক্ষ্যেই মূলত এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।