ভোলার অবহেলিত জনপদ চরফ্যাসন ও মনপুরা উপজেলায় হাটবাজার এবং পরিবহন খাতে খাজনা-টোল মওরুফের সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের মানবিক উদ্যোগে ১৪৩৩ বাংলা সনের জন্য এসব হাটবাজারকে ইজারামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
ফলে উপজেলা ও পৌরসভার আওতাধীন কোনো হাটবাজারে আর খাজনা বা টোল আদায় করা হবে না। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পরিবহন থেকেও টোল আদায় বন্ধ রাখা হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরফ্যাসনে মোট ৬১টি হাটবাজার থাকলেও বর্তমানে সচল রয়েছে ৫৬টি। এসব বাজার থেকে সরকারের নির্ধারিত বার্ষিক রাজস্ব ছিল প্রায় ৮২ লাখ ৫৬ হাজার ২৫০ টাকা। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ভ্যাট, আয়কর ও জামানত যুক্ত হয়ে ব্যয় আরও বেড়ে যেত। তবে জনস্বার্থ বিবেচনায় সংসদ সদস্য নিজ উদ্যোগে এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া পৌরসভার আওতাধীন বাজারগুলোর জন্যও বিপুল পরিমাণ অর্থ তিনি ব্যক্তিগতভাবে পরিশোধ করেছেন বলে জানা গেছে।
এই উদ্যোগের ফলে শুধু হাটবাজারই নয়, পরিবহন খাতেও বড় ধরনের স্বস্তি এসেছে। বোরাক, মাইক্রোবাস, ট্রাক, সিএনজি, নসিমনসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে টোল আদায় বন্ধ হওয়ায় চালক ও শ্রমিকদের আয় বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে পণ্য পরিবহন খরচ কমে আসবে, যা বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চরফ্যাসনের স্থানীয় ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া জানান, আগে প্রতিদিন খাজনা দিতে হতো, ফলে লাভের পরিমাণ কমে যেত। এখন ইজারামুক্ত হওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা সহজ হবে এবং তারা কিছুটা স্বস্তিতে কাজ করতে পারবেন। অন্যদিকে পরিবহন শ্রমিকরাও টোল বন্ধ হওয়ায় খুশি প্রকাশ করেছেন।
এছাড়াও মনপুরা উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়ার জাকির মাস্টার বলেন, আমাদের এমপি মহোদয়য়ের এমন মানবিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এতে করে দুই উপজেলার সকল মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, উপকূলীয় এই অঞ্চলে এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অর্থনৈতিক চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখবে না, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতেও সহায়তা করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের উদ্যোগ অন্যান্য এলাকাতেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।