
যে ঈদ নিয়ে আসার কথা ছিল অনাবিল আনন্দ আর উৎসবের আমেজ, সেই বিশেষ দিনটিই এক গৃহবধূর জন্য বয়ে আনল মর্মান্তিক পরিণতি। বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে মিমি বেগম (২৬) নামের এক গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে উপজেলার নারচি ইউনিয়নের অন্তর্গত গণকপাড়া উত্তর দেবেরপাড়া গ্রামে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ নিহতের স্বামী পেশায় কাঠমিস্ত্রি রুবেল মণ্ডলকে (৩০) তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সারিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান।
ঝগড়ার একপর্যায়ে নৃশংস হামলা
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ধৃত রুবেল মণ্ডল গণকপাড়া উত্তর দেবেরপাড়া গ্রামের ওমর আলী মণ্ডলের ছেলে। বেশ কয়েক বছর আগে মিমি বেগমের সাথে তার বিয়ে হয়। ঈদের দিন বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঘরোয়া একটি বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে চরম উত্তেজিত হয়ে রুবেল ঘরে থাকা একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে মিমি বেগমকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। গুরুতর এই হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মিমি।
খবর পেয়ে সারিয়াকান্দি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। একই সাথে ঘাতক স্বামী রুবেল মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তাক্ত ধারালো অস্ত্রটি জব্দ করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সারিয়াকান্দি থানার ওসি আ ফ ম আসাদুজ্জামান জানান, নিহত মিমি বেগমের শরীরে ধারাল অস্ত্রের বেশ কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দাম্পত্য কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, "হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার স্বামী রুবেল মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।"