
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অবাক করা বিষয় হল যেসব প্রার্থী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তারাই শেষ হাসি হাসতে পারেননি।
এসব প্রার্থীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (ঢাকা-৮)
রাজধানীর আলোচিত আসন ঢাকা-৮-এ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস-এর বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে ভোর ৪টার দিকে ঘোষিত ফলে প্রায় পাঁচ হাজার ভোটে পরাজিত হন তিনি।
সারজিস আলম (পঞ্চগড়-১)
জুলাই যোদ্ধাদের সমন্বয়ক হিসেবে আলোচনায় থাকা সারজিস আলম পঞ্চগড়-1 আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ধানের শীষ প্রতীকে ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির ১,৮৬,১৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। সারজিস আলম পান ১,৬৮,০৪৯ ভোট। ফল ঘোষণার পর প্রতিদ্বন্দ্বীকে অভিনন্দন জানিয়ে রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের নজির স্থাপন করেন তিনি।
ডা. তাসনিম জারা (ঢাকা-৯)
এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা জোটগত সিদ্ধান্তের পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। ঢাকা-৯ আসনে তিনি তৃতীয় অবস্থানে থেকে পরাজিত হন।
মাওলানা মামুনুল হক (ঢাকা-১৩)
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ-এর নেতা মামুনুল হক ঢাকা-১৩ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেন। বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ পান ৮৮,৩৮৭ ভোট, আর মামুনুল হক পান ৮৬,০৬৭ ভোট। ব্যবধান ছিল ২,৩২০ ভোট। তিনি ফলাফল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ তোলেন।
আমিনুল হক (ঢাকা-১৬)
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমিনুল ইসলাম পরাজিত হন মো. আব্দুল বাতেন-এর কাছে। বাতেন পান ৮৬,৮২৩ ভোট এবং আমিনুল ইসলাম পান ৮৪,২০৭ ভোট।
মিয়া গোলাম পরওয়ার (খুলনা-৫)
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগারের কাছে ২,৭০২ ভোটে পরাজিত হন।
মোহাম্মদ শিশির মনির
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ব্যাপক আলোচনায় থাকলেও বিএনপি প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরীর কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন। ব্যবধান ছিল ৩৯,৯৩২ ভোট।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ (কক্সবাজার-২)
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ ৩৫,৬২৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন বিএনপি প্রার্থীর কাছে।
হারুনুর রশীদ হারুন (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩)
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হারুনুর রশীদ হারুন পরাজিত হন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুল ইসলাম বুলবুল-এর কাছে।
মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম (বরিশাল-৫ ও ৬)
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম দুই আসনেই পরাজিত হন। বরিশাল-৫-এ বিএনপির অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের কাছে এবং বরিশাল-৬-এ আবুল হোসেন খানের কাছে হেরে যান তিনি।