
ধর্মীয় উগ্রবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘরে পরিণত হওয়া নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ নাইজারের এক জনবহুল বাজারে আবারও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলায় অন্তত ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নাইজারের ডেমো গ্রামের কাসুয়ান দাকি মার্কেটে এ রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মোটরসাইকেলে করে আসা একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হঠাৎ বাজারে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন। স্থানীয়ভাবে ‘ডাকাত’ নামে পরিচিত এই সন্ত্রাসীরা শুধু হত্যাকাণ্ডেই থেমে থাকেনি; তারা বাজারের একাধিক দোকানে লুটপাট চালায় এবং কয়েকটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়।

নাইজার পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিও আবিওদুন হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হামলাকারীরা লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি কয়েকজন সাধারণ মানুষকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। অপহৃতদের উদ্ধারে নিরাপত্তা বাহিনী ইতোমধ্যে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে বলে তিনি জানান।
হামলায় আহত প্রত্যক্ষদর্শী দাউদা সাকুল্লে বলেন, হামলাকারীরা নারী ও শিশুদের ওপরও কোনো ছাড় দেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় বাজারে কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য উপস্থিত ছিলেন না, ফলে সন্ত্রাসীরা দীর্ঘ সময় ধরে তাণ্ডব চালানোর সুযোগ পায়। বর্তমানে স্থানীয়রা ধ্বংসস্তূপের ভেতর নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু এ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং অপহৃতদের নিরাপদে উদ্ধারের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বন ও জঙ্গলে ঘেরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জোরদার সামরিক অভিযান চালাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এর এক মাস আগে নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলের একটি ক্যাথলিক স্কুল থেকে ৩০০ শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়, যাদের একটি বড় অংশ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। উত্তরাঞ্চলে ধারাবাহিক অপহরণ ও সন্ত্রাসী হামলা দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: রয়টার্স