
নির্বাচনে জয়ী হলে চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কুমিল্লা–৪ (দেবীদ্বার) আসনে ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ (আবুল হাসনাত)। তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের কাছে গিয়ে বলছি, আপনারাই আমাদের জেতাতে পারেন। আপনারা যদি আমাদের দায়িত্ব দেন, তাহলে চাঁদাবাজ আর মাদক ব্যবসায়ীদের ঘুম হারাম করে দেব।’
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের মরিচা এলাকায় এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
এনসিপির এই নেতা বলেন, ভোটের ধরন দু’টি হতে পারে। এক ধরনের ভোট চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও টেন্ডারবাজদের ঘিরে—যেখানে তারা ভোটের বিনিময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। আরেকটি ভোট হলো সরাসরি জনগণের কাছে গিয়ে সমর্থন চাওয়া।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি আমার দায়িত্ব নেন, তাহলে ঋণখেলাপিদের দাউদকান্দির ওই দিকে ঢুকতে দেব না। জনগণ আমার দায়িত্ব নিলে হয় মাদক ব্যবসায়ী থাকবে, না হলে আমি দেবীদ্বারে থাকব।’
মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্তদের শেষবারের মতো সতর্ক করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনাদের লাস্ট ওয়ার্নিং দিচ্ছি। ভুল থেকে ফিরে আসুন। কর্মসংস্থানের দরকার হলে আমাদের জানান—দোকান বা গরু কিনে দেব, যেন বৈধভাবে জীবনযাপন করতে পারেন। কিন্তু কেউ যদি মাদক সিন্ডিকেট চালানোর চেষ্টা করেন, তাহলে আপনাদের অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে।’
নিজের সঙ্গে ছবি থাকলেই কেউ তার ঘনিষ্ঠ—এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করে এই সংসদ সদস্য প্রার্থী বলেন, ‘আমার সঙ্গে ছবি থাকলেই কেউ আমার লোক হয়ে যায় না। পরে সেই ছবি দেখিয়ে কেউ যদি অবৈধ সুবিধা নিতে চায়, সেটার কোনো সুযোগ নেই। এমনকি আমার বাবা যদি অবৈধ সুবিধা চাইতেও আসেন, তাকেও জায়গা দেওয়া হবে না।’
নির্বাচনী রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগে অনেক নেতা নির্বাচনের আগে এসে সহায়তার আশ্বাস দিতেন, কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর পাঁচ বছর আর খোঁজ পাওয়া যেত না। আমি আপনাদের সাহায্য করতে আসিনি, আমি আপনাদের কাছে সাহায্য চাইতে এসেছি। প্রথম ১৫ দিন আপনারা আমাকে হেল্প করবেন, আর পরের পাঁচ বছর আমি আপনাদের পাশে থাকব।’
নারীদের ভোটকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘ইনশা আল্লাহ এবার আমাদের মায়েদের, খালাদের, চাচিদের, বোনদের ভোটেই আমরা সংসদে যাব। নারীরা একবার কথা দিলে সেটা কখনো ভাঙে না।’