
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর কথিত বান্ধবীকে হেফাজতে নিয়েছে নৌপুলিশ। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর দিন রাতে উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট ও বারে ওই তরুণীর সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন তাহসিফ। সে সময় তাঁর বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন।
টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ আহমেদ জানান, শনিবার রাতে ওই তরুণীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের পর প্রথমে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। জিজ্ঞাসাবাদে তাহসিফকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত এবং সেখানে যাওয়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তথ্য দেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্যের মধ্যে একাধিক অসংগতি পাওয়া যায় বলে দাবি তদন্তকারীদের।
পরে দীপের দেওয়া তথ্য অনুসরণ করে বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালায় পিবিআই। একপর্যায়ে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
নৌপুলিশের সূত্র জানিয়েছে, রিমান্ডে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর আগের বক্তব্য, পরিবারের দায়ের করা হত্যা মামলার তথ্য, বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ এবং উদ্ধার করা আলামত সামনে রাখা হচ্ছে। তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে কী ঘটেছিল এবং তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা শনাক্তের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তরায় নিজের বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। রাতে মায়ের মুঠোফোনে একটি কণ্ঠবার্তা পাঠিয়ে তিনি বাসায় ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি তিনি।
পরদিন বুধবার বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। মৃত্যুর পরদিন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।