
মার্কিন নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোটের ওপর নতুন সীমা আরোপের উদ্যোগকে ঘিরে বড় ধরনের আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। প্রায় দুই ডজন ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
শুক্রবার দায়ের করা এই মামলায় ২৩টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলরা অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসও রয়েছেন। মামলায় ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নির্বাহী আদেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, যা ডাকযোগে ভোট প্রদানের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপের লক্ষ্যে জারি করা হয়েছিল।
ভোটাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করছে, নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোট দেওয়া কঠিন করে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্পের দাবি, নির্বাচনে সম্ভাব্য ব্যাপক জালিয়াতি ঠেকানোর উদ্দেশ্যেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
কিন্তু এই বক্তব্যটি রক্ষণশীল হেরিটেজ ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন স্বাধীন নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের গবেষণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের দীর্ঘদিনের তথ্যভাণ্ডারে ভোট জালিয়াতির হার খুবই কম বলে উঠে এসেছে।
মামলায় বলা হয়েছে, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ সংবিধান লঙ্ঘন করে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের “সময়, স্থান ও পদ্ধতি” নির্ধারণের ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে। এছাড়া নির্বাচন সংক্রান্ত নতুন নিয়ম প্রণয়ন করার এখতিয়ার কংগ্রেসের, এককভাবে প্রেসিডেন্টের নয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
লেটিশিয়া জেমস এক বিবৃতিতে বলেন, “মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন আমাদের গণতন্ত্রের ভিত্তিপ্রস্তর, এবং কোনো রাষ্ট্রপতিরই এককভাবে এর নিয়মকানুন পরিবর্তন করার ক্ষমতা নেই,”।
ট্রাম্পের মঙ্গলবার স্বাক্ষরিত নির্বাহী আদেশে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিকে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে ভোট দেওয়ার উপযুক্ত নাগরিকদের একটি তালিকা তৈরি ও সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ইউনাইটেড স্টেটস পোস্টাল সার্ভিসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তারা কেবল রাজ্যভিত্তিক নিবন্ধিত মেইল-ইন ও অ্যাবসেন্টি ভোটারদের কাছেই ব্যালট পাঠায়।
ভোটাধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে, এই প্রক্রিয়ায় একটি অসম্পূর্ণ ফেডারেল তালিকার ওপর নির্ভর করতে হতে পারে, যা বহু যোগ্য ভোটারকে বাদ দিতে পারে। একই সঙ্গে ইউএসপিএস-এর ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে।
কোভিড-১৯ মহামারীর পর যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে মোট ভোটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ডাকযোগে প্রদান করা হয়।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে এ ধরনের পরিবর্তন চাপিয়ে দিলে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। উল্লেখ্য, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলেই নির্ধারিত হবে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে।
ট্রাম্প এর আগেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, রিপাবলিকান পার্টি যদি উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়, তবে তিনি অভিশংসনের মুখোমুখি হতে পারেন।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রমাণ ছাড়াই দাবি করে আসছেন, ২০২০ সালের নির্বাচনে তার পরাজয় ব্যাপক জালিয়াতির ফল। এ অবস্থায় তিনি ভোটব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন, যদিও তার আগের অনেক নির্বাহী পদক্ষেপ আদালতে আটকে গেছে।
এদিকে বিচার বিভাগও ভোটার তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। গত জানুয়ারিতে জর্জিয়ার ফুলটন কাউন্টিতে এফবিআইয়ের অভিযানে ২০২০ সালের নির্বাচনের ব্যালট জব্দ করার ঘটনাও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাসের জন্যও আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প। এই আইনে ভোটার নিবন্ধনের সময় জন্মসনদ বা পাসপোর্টসহ নাগরিকত্বের অতিরিক্ত প্রমাণ এবং ভোটদানের জন্য ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে।
অধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে, এসব বিধিনিষেধ কার্যকর হলে বহু ভোটার ভোটাধিকার হারাতে পারেন—বিশেষ করে সেই নারীরা, যারা বিয়ের পর নাম পরিবর্তন করেছেন।
সূত্র: আল জাজিরা