
লেবানন ও ইসরায়েল একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এই চুক্তিটি মাঠপর্যায়ে কার্যকর হওয়া সম্পূর্ণভাবে কিছু কঠোর শর্তের ওপর নির্ভর করছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলে সব ধরনের হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’-এর বরাতে ওয়াশিংটন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত এপ্রিল মাসের একটি ভঙ্গুর চুক্তির পর চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা ও উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার তীব্রতা বাড়ার পর নতুন করে এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলো।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এই দুটি সার্বভৌম সরকারকেই নির্ধারণ করতে হবে। লেবাননের ভবিষ্যৎকে জিম্মি করার জন্য কোনো রাষ্ট্র বা অ-রাষ্ট্রীয় শক্তির (নন-স্টেট অ্যাক্টর) যেকোনো ধরনের প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক মহল প্রত্যাখ্যান করছে। চুক্তির প্রধান শর্তগুলো হলো:
সেনা ও অপারেটিভ প্রত্যাহার: দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদী থেকে শুরু করে ইসরায়েল সীমান্ত পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে হিজবুল্লাহর সব সদস্য ও সামরিক অপারেটিভদের প্রত্যাহার করতে হবে।
পাইলট জোন তৈরি: লেবাননে কিছু ‘পাইলট জোন’ বা পরীক্ষামূলক এলাকা তৈরিতে সহযোগিতা করবে যুক্তরাষ্ট্র। এসব এলাকায় কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না এবং পুরো অঞ্চলের একক ও একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ থাকবে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর (LAF) হাতে।
এদিকে এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আশা প্রকাশ করে বলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে হিজবুল্লাহর প্রভাবমুক্ত একটি স্বাধীন ও নিরাপদ লেবানন বিনির্মাণের কর্মপরিকল্পনা তৈরি সম্ভব হবে।
গত সোমবার (১ জুন) দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া একটি আংশিক সমঝোতা অনুযায়ী লেবানন জানিয়েছিল, হিজবুল্লাহ হামলা বন্ধ রাখলে ইসরায়েলও বৈরুতে বোমাবর্ষণ করবে না। কিন্তু গত বুধবারই দক্ষিণ লেবাননের চেহুর এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দুজন চিকিৎসাকর্মীসহ অন্তত ৯ জন নিহত হন।
এর জবাবে ইসরায়েলি সীমান্ত লক্ষ্য করে ড্রোন ও রকেট হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা সীমান্ত পেরিয়ে আসা ড্রোন ও রকেট আকাশেই ধ্বংস (ইন্টারসেপ্ট) করেছে। এই ঘটনার পর ইসরায়েলি নেতারা হুঁশিয়ারি দেন, হিজবুল্লাহ হামলা না থামালে তাদের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলি ‘দাহিয়েহতে’ আবারও ভয়াবহ বিমান হামলা শুরু হবে।
নতুন এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণার বিষয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনো প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে গত মঙ্গলবার হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মাহমুদ কামাতি বিবিসির কাছে দাবি করেন, আসলে সামগ্রিক কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়নি, শুধু দাহিয়েহ অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখার একটি সমঝোতা হয়েছে।
কামাতি আরও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান আলোচনায় নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রতিশ্রুতি মানতে হিজবুল্লাহ বাধ্য নয়।
এই টানাপোড়েন ও অনাস্থার মধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী চুক্তির লক্ষ্যে আগামী ২২ জুন দুই দেশ আবারও আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসবে বলে জানা গেছে।
সূত্র: বিবিসি