
গাজীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণ। নবনিযুক্ত ডিজির বিরোধী ও সমর্থক—এই দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে একদিকে যেমন স্লোগান-বিক্ষোভ চলছে, অন্যদিকে তালাবদ্ধ হয়ে পড়েছে প্রশাসনিক ভবন।
এক মাসের শূন্যতা ও বিতর্কিত নিয়োগ
দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরে ব্রির মহাপরিচালক পদটি খালি থাকার পর গত রবিবার আমিনুল ইসলামকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সোমবার (৪ মে) সকালে এই নিয়োগের প্রতিবাদে একদল বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ ও ‘দুর্নীতিবাজ’ তকমা দিয়ে আন্দোলনে নামেন। পাল্টা অবস্থানে দাঁড়ান নবনিযুক্ত ডিজির অনুসারীরাও।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে গবেষণাগার থেকে শুরু করে প্রশাসনিক—সব ধরনের নিয়মিত কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে।
প্রতিবাদী পক্ষ যা বলছে
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী সমিতির নির্বাচিত সহসভাপতি এ বি এম আনোয়ার উদ্দিন তার বক্তব্যে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘প্রায় এক মাস ধরে ডিজির পদটি শূন্য ছিল। রোববার যাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তিনি পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সুবিধাভোগী ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।’
সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নেই উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ না থাকলেও নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির অতীত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে বসানো হলে গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।’
পাল্টা অবস্থান ও সমর্থক পক্ষ
অন্যদিকে, আমিনুল ইসলামের সমর্থক গোষ্ঠী দাবি করছে, ডিজির অনুপস্থিতিতে বেতন-ভাতা প্রদানসহ নানা প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। তাই দ্রুত তার কার্যভার গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির সহসভাপতি আবদুল মান্নান বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে ডিজি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই তিনি দ্রুত দায়িত্ব নিন।’
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ
উত্তপ্ত এই পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ব্রিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গাজীপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মেহেদী হাসান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
দেশের প্রধান এই কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটাতে দ্রুত সরকারি সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।