
মাদকাসক্তির করাল গ্রাস কেড়ে নিল এক মায়ের প্রাণ। নাটোরে নেশার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় নিজের গর্ভধারিণী মাকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করেছে এক যুবক। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘ লড়াই শেষে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন সেই হতভাগী মা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও নৃশংসতা
নিহত সাজেদা বেগম (৫৫) নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার পশ্চিমপাড়া মহল্লার আব্দুল মতিনের স্ত্রী। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সাজেদা বেগমের স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে আলাদা থাকায় তিনি বাড়িতে একাই থাকতেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ছেলে রাজন (২২) বিবাহিত এবং তিনি পার্শ্ববর্তী বাগডোব গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।
মাদকাসক্ত রাজন প্রায়ই টাকার জন্য তার মায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন। গত শনিবার বিকেলে তিনি মায়ের কাছে এসে নেশার সামগ্রী কেনার জন্য ৫০০ টাকা দাবি করেন। কিন্তু সাজেদা বেগম টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে রাজন ক্ষিপ্ত হয়ে পকেট থেকে ছুরি বের করেন এবং তার মায়ের পেটে উপর্যুপরি আঘাত করেন। ছুরিকাঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে তার নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে আসে।
হাসপাতালে মৃত্যু ও পুলিশের পদক্ষেপ
শনিবার বিকেলের সেই হামলার পর সাজেদা বেগমের আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। তারা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রোববার (৩ মে) রাত ১০টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এদিকে ঘটনার পরপরই তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ। অভিযুক্ত রাজনকে শনিবার রাতেই তার শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত রাজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।’
মাদকাসক্তির কারণে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা এই জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।