
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ওষুধ বা ইনসুলিন নেওয়ার পাশাপাশি জীবনযাপনেও শৃঙ্খলা আনা জরুরি। অনেক সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণের পরও রক্তে শর্করার মাত্রা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে থাকে না। এর অন্যতম কারণ হতে পারে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম, পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের অভ্যাস গড়ে তুললে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের এসব দিক নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউজ১৮।
শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা জরুরি
ডায়াবেটিস রোগীর ওজন বেশি হোক বা স্বাভাবিক—নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা প্রয়োজন। হাঁটা কিংবা অন্যান্য উপযোগী ব্যায়াম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং ওজন ঠিক রাখতে সহায়তা করতে পারে।
ভারতের স্বাস্থ্য আধিকারিক ডক্টর শ্যামল কুমার বিশ্বাসের মতে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় হাঁটার অভ্যাস শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে। তাই দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থেকে দৈনন্দিন কাজে শারীরিক সক্রিয়তা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
খাদ্যতালিকায় আনতে হবে পরিবর্তন
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ রোগীদের পুষ্টিকর এবং তুলনামূলক কম চর্বি ও ক্যালোরিযুক্ত খাবার বেছে নেওয়া উচিত। খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে শাকসবজি, ফল ও শস্যজাতীয় খাবার রাখা যেতে পারে।
তবে সবার শারীরিক অবস্থা ও পুষ্টির চাহিদা এক নয়। তাই ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যতালিকা তৈরি করতে চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।
মানসিক চাপ কমানোও গুরুত্বপূর্ণ
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। অতিরিক্ত মানসিক চাপ রক্তে শর্করার মাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিজেকে চাপমুক্ত ও শান্ত রাখার চেষ্টা করা জরুরি।
ধ্যান, যোগব্যায়াম কিংবা নিজের পছন্দের কাজে সময় কাটানোর মতো অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিদিন পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলাও প্রয়োজন।
তবে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার অর্থ নিজের সিদ্ধান্তে ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিন বন্ধ করে দেওয়া নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের অভ্যাস বজায় রাখলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার সম্ভাবনা বাড়ে।