
চিরুনি চালালেই উঠে আসছে একগুচ্ছ চুল, গোসলের পর বেসিন কিংবা মেঝেতে পড়ে থাকছে চুল—এমন সমস্যায় অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়েন। চুল পড়ার পেছনে বংশগত কারণ, হরমোনের পরিবর্তন, পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপ কিংবা কিছু শারীরিক সমস্যা ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসও চুলের ক্ষতি বাড়িয়ে দিতে পারে।
চুল পড়া কমাতে তাই দামি প্রসাধনী ব্যবহারের পাশাপাশি দৈনন্দিন যত্নের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, নিচের অভ্যাসগুলো মেনে চলতে পারেন—
১. ভেজা চুলে জোরে আঁচড়াবেন না
ভেজা অবস্থায় চুল তুলনামূলক বেশি দুর্বল থাকে। এ সময় শক্ত করে চিরুনি চালালে চুল ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। গোসলের পর নরম তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে পানি শুকিয়ে নিয়ে চুল কিছুটা শুকানোর পর চিরুনি ব্যবহার করা ভালো।
২. অতিরিক্ত গরম পানি এড়িয়ে চলুন
খুব গরম পানি মাথার ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমিয়ে দিতে পারে। এতে মাথার ত্বক শুষ্ক ও অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। চুল ধোয়ার সময় অতিরিক্ত গরম পানির পরিবর্তে কুসুম গরম বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করা ভালো।
৩. ঘন ঘন হিট স্টাইলিং কমান
স্ট্রেইটনার, কার্লার ও অতিরিক্ত গরম হেয়ার ড্রায়ারের ব্যবহার চুলের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। নিয়মিত এসব ব্যবহারে চুল শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে ভেঙে পড়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত তাপ ব্যবহার না করাই ভালো।
৪. খাবারে পুষ্টির ঘাটতি হতে দেবেন না
চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য শরীরের পর্যাপ্ত পুষ্টি প্রয়োজন। খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিংক, ভিটামিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকা জরুরি। ডিম, মাছ, ডাল, শাকসবজি, বাদাম ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
৫. অতিরিক্ত টাইট করে চুল বাঁধবেন না
প্রতিদিন শক্ত করে পনিটেল, খোঁপা বা বেণি করার অভ্যাস চুলের গোড়ায় টান তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন এভাবে চুল বাঁধার ফলে চুলের ক্ষতি হতে পারে। তাই চুল বাঁধার সময় খুব বেশি টান না দেওয়াই ভালো।
৬. ঘুম ও মানসিক চাপের দিকে নজর দিন
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যার প্রভাব চুলের ওপরও পড়তে পারে। তাই নিয়মিত ঘুম, পরিমিত ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা জরুরি।
তবে চুল পড়া হঠাৎ বেড়ে গেলে, মাথার নির্দিষ্ট অংশে চুল পাতলা হয়ে গেলে, টাকের মতো জায়গা তৈরি হলে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলতে থাকলে শুধু ঘরোয়া যত্নের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ চুল পড়ার পেছনে কোনো শারীরিক বা হরমোনজনিত কারণ থাকলে সেটির সঠিক চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।