
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জুয়া ও বাজি থেকে অর্জিত আয়ের ওপর কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, হাউজি, বেটিং এবং ঘোড়দৌড়ে বাজি ধরে অর্জিত অর্থকে করযোগ্য আয় হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এ ধরনের আয়ের ওপর ২৫ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হওয়ার পর স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে বাজেট উপস্থাপনের আহ্বান জানান।
প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে, দেশে প্রচলিত আইনে জুয়া অবৈধ হলেও এ ধরনের কার্যক্রম থেকে অর্জিত আয়কে করের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে লটারি, শব্দজট, কার্ড গেম বা অনলাইন গেমের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করলে তা করযোগ্য আয়ের মধ্যে পড়ে। নতুন অর্থবছর থেকে হাউজি, বেটিং এবং ঘোড়দৌড়ে বাজি থেকে অর্জিত অর্থও করযোগ্য আয়ের তালিকায় যুক্ত হবে।
এনবিআরের প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব উৎস থেকে আয় করলে অর্জিত অর্থের ওপর ২৫ শতাংশ হারে আয়কর পরিশোধ করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো আয়ের উৎস অবৈধ হলেও কর আইনের দৃষ্টিতে সেই আয় করযোগ্য হতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও অবৈধ বা অনিয়মিত উৎস থেকে অর্জিত আয়ের ওপর কর আরোপের নজির রয়েছে। তবে কর আরোপ করা মানেই সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া নয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার করের আওতা সম্প্রসারণ এবং অপ্রদর্শিত আয়ের একটি অংশকে কর নেটওয়ার্কে আনতে চাচ্ছে। তবে দেশে জুয়া যেহেতু আইনত নিষিদ্ধ, তাই কর আদায়ের পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।