
বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক লতিফুর রহমান। চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক উঠান বৈঠকে তিনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের জামায়াতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দলে এলে তাদের মামলার দায়-দায়িত্ব নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়া মদনমোড় এলাকায় অনুষ্ঠিত ওই উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ কর্মীর জামায়াতে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘দুলাল আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে যোগ দিয়েছে। সে জাহান্নাম থেকে বেঁচে গেছে।’
বৈঠকে লতিফুর রহমান বলেন, ‘আগামী দিনের বাংলাদেশে একটি পরিবর্তন হতে চলেছে। আমাদের দলে যারা আওয়ামী লীগ থেকে আসবেন, আপনাদের দায়-দায়িত্ব আমরা নেব। আপনারা আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে যোগ দেন, বিএনপি থেকে জাময়াতে যোগ দেন, আপনাদের দায়িত্ব আমরা নেব। জামায়াতে ইসলামীকে আগের জামায়াত মনে করিয়েন না, জামায়াত এখন অনেক শক্তিশালী।’
তিনি আরও বলেন, ‘নবাবগঞ্জের সব সমস্যা এখন লতিফুর রহমান দেখে। যারা আওয়ামী লীগ থেকে এসেছেন, নির্দ্বিধায় থাকবেন, আপনাদের বিষয়ে আইন-আদালত, কোর্ট-থানার দায়িত্ব আমরা নেব, ইনশাআল্লাহ।’
দলীয় অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আল্লাহর দল ছাড়া মানুষের গড়া দল করা যাবে না, এটি আমার কথা নয়, কোরআনের কথা। আল্লাহ বলেছেন, তোমাদের সকল বিষয়ের জাররা জাররা হিসাব নেব। বিএনপির সাথে থাকবেন, বিএনপির সাথে কেয়ামত করতে হবে। আল্লাহর রাসুল বলেছেন, কাউকে ভালোবাসতে হলে আল্লাহর জন্য ভালোবাসতে হবে, কারও সাথে শত্রুতা করলে আল্লাহর জন্য করতে হবে, দান করলে আল্লাহর জন্যেই করতে হবে।’
জেলা জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির নিজেকে শহীদ পরিবারের সন্তান দাবি করে বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির লোকদের দাওয়াত দিচ্ছি। আমরা হিন্দু ভাইদের প্রতি দাওয়াত দিচ্ছি, আজকে তারা দলে দলে দাখিল হচ্ছে। দুলাল আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে যোগ দিয়েছে। সে জাহান্নাম থেকে বেঁচে গেছে। আমি নিজেও আওয়ামী লীগ পরিবারের ছেলে। আমি ১৯৭১ সালের শহীদ পরিবারের ছেলে। আমি দেশ স্বাধীনের জন্য ৬৯ থেকে ৭৫ পর্যন্ত কাজ করেছি। আমি ১৯৭৬ সালে মুসলমান হয়েছি, আমাকে মুসলমান বানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। আমি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কাছে ঋণি, আমাকে নামাজ, কোরআন, ইসলাম সম্পর্কে ধারণা, মুসলমানদের কায়দা-কানুন শিখিয়েছে।’
সাবেক এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘যারা আগে আওয়ামী লীগ করতো এখন জামায়াতে যোগ দিয়েছে, তাদের বাড়ি পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। আমি এখান থেকেই ডিবি পুলিশকে বলে দিলাম, এভাবে ডিস্টার্ব করবেন না। ইসলাম হচ্ছে মানবতার ধর্ম। কোরআন শুধু মুসলমানদের জন্য না, কোরআন এসেছে মানবজাতির জন্য। আমরা হিন্দুদের প্রার্থী দিয়েছি, তারা দলে দলে জামায়াতে যোগ দিচ্ছে। সব দল দেখা শেষ, শুধু একটি দল বাকি, এবার মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে দেখতে চাই।’
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা (বিএনপি) ঘাবড়াবেন না। আমাদের রগ কাটা পার্টি বলে নিজেরা সন্ত্রাস করছেন, চাঁদাবাজি করছেন। নিজেদের কুকর্ম ঢাকতে আপনাদের মানুষকে যখন কিছু বলার থাকে না, তখন আবোল-তাবোল কথা বলেন। এগুলো জনগণ আর খাচ্ছে না।’
উল্লেখ্য, এর আগেও এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ এবং তার মাধ্যমে ১৫ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে জামায়াতে যুক্ত করে বৈঠক আয়োজনের ঘটনায় লতিফুর রহমানকে ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।