
বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আর ভুল পথে পা দেবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তার মতে, বিপ্লব-পরবর্তী সময়ের বিভাজনকে পুঁজি করে পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি ও দিল্লির মদদপুষ্ট মহল নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এসব চক্রান্ত প্রতিহত করতে তিনি দেশের সব রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের ঐক্যের আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন ডাকসু ভিপি। এরপর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।
সাদিক কায়েম বলেন, ‘আমরা প্রথমেই আপসহীন সংগ্রামের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করছি। তারেক রহমানের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তিনি ডাকসুসহ দেশের ছাত্রসমাজের প্রতি কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন এবং সব রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।’
তিনি জানান, আগামী দিনের রাজনীতি হবে স্পষ্টতই ‘বাংলাদেশপন্থী’। দেশ, মাটি, মানুষ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাই হবে এই রাজনীতির ভিত্তি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া আমাদের যে পথ দেখিয়েছেন, সেই লক্ষ্যেই আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালিয়ে যাব।’
তরুণ প্রজন্মের ভোটাধিকারের বিষয়টি তুলে ধরে ডাকসু ভিপি বলেন, গত ১৬ বছর ধরে তরুণরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে জুলাইয়ের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনে প্রস্তাবিত গণভোট বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে নিহত শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বিচার প্রসঙ্গে গভীর উদ্বেগ জানান সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, ‘ওসমান হাদিকে যারা গুলি করেছে এবং যারা হত্যার পরিকল্পনাকারী, তারা এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশে তার বিচার নিশ্চিত করতে সব রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
সবশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলো যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে বাংলাদেশ আর কখনো দিশাহারা হবে না।