
জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠনের নাম বহাল রাখা হয়েছে। বিলটি ঘিরে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান আপত্তি তুললেও জোটসঙ্গী এনসিপি লিখিতভাবে তাদের কোনো আপত্তি নেই বলে জানায়।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদের অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বিলটি উত্থাপন করেন। আলোচনা শেষে কণ্ঠভোটে এটি পাস হয়। বিল উত্থাপনের সময় শফিকুর রহমান ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’র সংজ্ঞা থেকে জামায়াতে ইসলামীর নাম বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আল্লাহ ভালো জানেন, একাত্তরের সেই চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল।’ তবে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো ধারা সংশোধনের প্রস্তাব দেননি।
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদকে জানান, এনসিপি এই বিলের ওপর কোনো আপত্তি জানায়নি এবং লিখিতভাবে তাদের মতামত দিয়েছে। পরে বিলটি ভোটে তোলা হলে তা পাস হয়।
পাস হওয়া বিলে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যাঁরা দেশের অভ্যন্তরে বা ভারতের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে যুদ্ধের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে স্বাধীনতার লক্ষ্যে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নেন, তাঁরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃত হবেন। এতে সশস্ত্র বাহিনী, ইপিআর, পুলিশ, মুক্তিবাহিনী, মুজিবনগর সরকারের অধীন বিভিন্ন বাহিনী, নৌ কমান্ডো, কিলো ফোর্স ও আনসার সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্যাতিত নারীদের বীরাঙ্গনা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
বিলে মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞায় উল্লেখ রয়েছে, স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দেশীয় সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট শক্তির বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধই মুক্তিযুদ্ধ।
এর আগে সংসদের বিশেষ কমিটিতে এই অধ্যাদেশ হুবহু আইনে রূপ দেওয়ার সুপারিশ করা হলে জামায়াতের সদস্যরা ভিন্নমত দেন। তাদের বক্তব্য ছিল, বর্তমান আকারে আইন পাস হলে বিদ্যমান কিছু রাজনৈতিক দলকে পাকিস্তানের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা তারা গ্রহণযোগ্য মনে করে না।
বিলটি পাসের মধ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ-সম্পর্কিত সংজ্ঞাগুলো আইনি কাঠামোয় আরও সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত হলো, যা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ঐতিহাসিক বর্ণনাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।