
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যতম ব্যস্ত যোগাযোগ মাধ্যম ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে। ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রার কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে পারাপার হওয়া যানবাহনের সংখ্যায় বড় ধরনের সুসংবাদ এসেছে। এই সময়ের মধ্যে সেতুটি দিয়ে রেকর্ড ৩২ হাজার ৬৪৯টি গাড়ি পার হয়েছে, যা থেকে টোল বাবদ সরকারের আয় হয়েছে ২ কোটি ৯৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯০০ টাকা।
আজ রোববার (২৪ মে) সকালের দিকে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী গণমাধ্যমকে এই বিপুল পরিমাণ যান চলাচল ও রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। সেতুর টোল প্লাজা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাধারণ সময়ে এই সেতু দিয়ে দৈনিক গড়ে ১৬ থেকে ১৭ হাজার যানবাহন যাতায়াত করে থাকে। তবে ঈদের বিশেষ চাপ থাকায় আজ রোববার গাড়ির সংখ্যা স্বাভাবিক দিনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণে গিয়ে ঠেকেছে।
সেতু পরিচালনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শুরু করে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ২৪ ঘণ্টায় সেতুর ওপর দিয়ে ৩২ হাজার ৬৪৯টি যান পারাপার সম্পন্ন হয়েছে। এর মাঝে রাজধানী ছেড়ে উত্তরবঙ্গের দিকে পাড়ি জমিয়েছে ১৬ হাজার ৭৫৩টি যানবাহন, যা থেকে টোল সংগৃহীত হয়েছে ১ কোটি ৪৯ লাখ ৭ হাজার ১৫০ টাকা। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকার অভিমুখে প্রবেশ করেছে ১৫ হাজার ৮৯৬টি গাড়ি, যার বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৫০ টাকা।
ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন ও যানজটমুক্ত রাখার বিশেষ প্রস্তুতি সম্পর্কে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, "ঈদযাত্রায় শনিবার থেকেই যমুনা সেতুর দুই পাশ দিয়ে ৯টি করে মোট ১৮ লেন দিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের জন্য পৃথক লেন করা হয়েছে।"
যানবাহনের তীব্র চাপ সামাল দিতে প্রশাসনের এমন আগাম ও সমন্বিত উদ্যোগের ফলে মহাসড়কে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ভোগান্তি ছাড়াই যাত্রীরা যাতায়াত করতে পারছেন।