
বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ খুব দ্রুতই একটি সবুজ এবং টেকসই উন্নয়নের মডেল রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, "টেকসই জ্বালানির পথে অগ্রসর হওয়া এখন আর শুধু পরিবেশগত দায়বদ্ধতা নয়, বরং এটি আমাদের অর্থনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য একটি অংশ।"
রোববার (২৪ মে) জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষ হলে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদ ভবনের ছাদে স্থাপিত ‘১ মেগাওয়াট রূফটপ সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা’র উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ জ্বালানিতে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে নিরলস চেষ্টা করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমাদের অর্থনীতি সম্প্রসারিত হচ্ছে; শিল্পায়ন ও বিদ্যুতের চাহিদাও দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম একটি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বর্ষণ, ঘূর্ণিঝড় এবং নদী ভাঙন এখন আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত এক দশকে বিশ্বব্যাপী সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে। ফলে সৌরশক্তি এখন কেবল পরিবেশবান্ধবই নয়, অর্থনৈতিকভাবেও অত্যন্ত কার্যকর একটি টেকসই সমাধান।
লুই কান নির্মিত স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন জাতীয় সংসদ ভবনের ছাদে এই সৌর প্যানেল স্থাপনের তাৎপর্য তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, "আজ আমরা এমন একটা উদ্যোগ উদ্বোধন করছি, যা শুধু একটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগই নয়, বরং এটা বাংলাদেশের টেকসই ভবিষ্যতের একটি প্রতীক। লুই কান নির্মিত নকশার এই জাতীয় সংসদ ভবন আমাদের গণতন্ত্রের প্রতীক। সেই ভবনের ছাদেই সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা প্রমাণ করার চেষ্টা করছি—নেতৃত্ব কেবল নীতিমালায় নয়, বরং বাস্তব কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হতে হবে।"
তিনি যোগ করেন, দেশের অসংখ্য ছাদ, শিল্প এলাকা, খোলা জমি এবং উপকূলীয় অঞ্চল নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিশাল সম্ভাবনা ধারণ করে আছে। জাতীয় সংসদ ভবনে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও সবুজ অর্থনীতির এই রূপান্তর দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের ছাদে সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের হুইপ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্য এবং জাতীয় সংসদে কর্মরত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এই ঐতিহাসিক সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।