
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি কবির বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের জাতীয় জীবনের বহু ক্ষেত্রে বিশ্বকবির অবদান অনস্বীকার্য। তার সারা জীবনের যুক্তিবোধ ও মঙ্গলভাবনা থেকেই তিনি আন্তর্জাতিকতার মর্মকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে অকুণ্ঠ থেকেছেন সব সময়।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ ছিল রবীন্দ্রনাথের সৃজনশীলতার মূল অন্বেষা। কাব্য, সংগীত, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, নৃত্যনাট্য ও চিত্রকলায় মানুষ, মানবতা, প্রেম, শান্তি ও প্রকৃতির জয়গান তিনি অনন্য শিল্পকুশলতায় তুলে ধরেছেন, যা বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রবীন্দ্রসংগীত ছিল অনুপ্রেরণার বিশেষ উৎস। বাংলার মানুষের দুঃখ-কষ্ট, আনন্দ-বেদনা ও জীবনসংগ্রাম বিশ্বস্ততার সঙ্গে উঠে এসেছে তার সাহিত্যকর্মে। তৎকালীন পূর্ববঙ্গ তথা আজকের বাংলাদেশের বাস্তবতা তার সৃষ্টিতে গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথের অমর সৃষ্টি আমার সোনার বাংলা আজ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি রচনার জন্য নোবেল পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন এবং তিনিই প্রথম এশীয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।
বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ-সংঘাত, উগ্রবাদ ও মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদী দর্শন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
শিক্ষা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের ভাবনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষায় গড়ে তুলতে কবি শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষাকেও তিনি সমান গুরুত্ব দিয়েছেন।
বিবৃতির শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, রবীন্দ্র-জন্মবার্ষিকীর এবারের আয়োজন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।