
শিক্ষাগুরুর মহৎ পেশাকে কলঙ্কিত করে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৪) একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মিজানুর রহমান (৪৫) নামের এক সহকারী শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে আদালতের নির্দেশে ওই শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত মিজানুর রহমান জেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী নবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের (টাউন হাইস্কুল) সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
পুলিশ, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০২৪ সাল থেকে প্রাইভেট পড়ানোর নাম করে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন সময় ফুঁসলিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন শিক্ষক মিজানুর রহমান। এই অনৈতিক ও পাশবিক কর্মের কথা যাতে জানাজানি না হয়, সে জন্য ওই ছাত্রীকে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকিও দেখাতেন তিনি। দীর্ঘ নির্যাতন সহ্য করার পর অবশেষে ওই শিক্ষার্থী পুরো বিষয়টি তার পরিবারের কাছে প্রকাশ করে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত শিক্ষক মিজানুর রহমানকে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গণপিটুনিতে আহত শিক্ষককে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।
গ্রেপ্তার ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি একরামুল হোসাইন জানান, "শিক্ষার্থীর পরিবারের দায়ের করা মামলায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ধর্ষণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।"