
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি গোষ্ঠীর ঘোষিত সামুদ্রিক ও নৌ-অবরোধের কঠোর প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। লোহিত সাগরসহ আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ জাতীয় পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্যকে মারাত্মক সংকটের মুখে ঠেলে দেবে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২২ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঢাকার এই কঠোর অবস্থান প্রকাশ্যে আনা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, হুতিদের এই সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দেবে, যা আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করবে। বাংলাদেশ সবসময়ই জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদ (ইউএনসিএলওএস) এবং আন্তর্জাতিক বিধিমালার আলোকে লোহিত সাগরসহ বিশ্বের সকল আন্তর্জাতিক নৌপথে বাধা ছাড়া ও আইনসম্মত জাহাজ চলাচলের পক্ষে অবস্থান বজায় রেখেছে।
পররাষ্ট্র দপ্তর মনে করিয়ে দেয়, বৈশ্বিক পণ্য আদান-প্রদান এবং জ্বালানি সরবরাহের প্রধানতম ও স্পর্শকাতর মাধ্যম হলো লোহিত সাগর। এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে যেকোনো ধরনের সামুদ্রিক প্রতিবন্ধকতা আন্তর্জাতিক সামগ্রিক অর্থনীতিতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। তাই সমুদ্রপথে চলাচলকারী সকল নাবিক, জাহাজ ও পরিবাহিত পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্বের সকল অংশীদারদের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে সংঘাতসংশ্লিষ্ট প্রতিটি পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়। সামুদ্রিক সুরক্ষাকে ঝুঁকিতে ফেলে—এমন যেকোনো সংঘাতমূলক বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে কূটনৈতিক আলোচনা জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছে। একই সাথে ঢাকা তাদের দীর্ঘদিনের স্পষ্ট অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে—অস্ত্র বা সংঘাত নয়, বরং আন্তরিক সংলাপ, কূটনৈতিক তৎপরতা ও শান্তিপূর্ণ সমঝোতার মাধ্যমেই যেকোনো সংকটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধান অর্জন করা সম্ভব।