
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনে রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জন নিহতের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ আর ঘোষণা করা হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে আগামী ২৬ জানুয়ারি নতুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় ঘোষণার জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
সূত্র জানায়, পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের এটিই প্রথম মামলা হলেও রায়ের ক্রমানুসারে এটি দ্বিতীয়। মামলাটিতে মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজন বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন এবং বাকি চারজন পলাতক।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।
অন্যদিকে পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং একই অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন নির্ধারিত হয়েছিল।
এই মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২৩ কার্যদিবসে ট্রাইব্যুনাল তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করে। পাশাপাশি সাফাই সাক্ষী হিসেবে আরশাদসহ আরও তিনজনের জবানবন্দি নেওয়া হয়। এরপর যুক্তিতর্ক পর্ব সম্পন্ন হয়।
মামলাটিতে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও সাক্ষ্য দেন। ট্রাইব্যুনালের সাক্ষ্য ডায়াসে দাঁড়িয়ে তিনি আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালায়। এতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন।