
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) সেলে ২৬ জনকে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হচ্ছে। এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে মোট ১১ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল ১৩ জন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার নির্দেশ দেন। একই দিনে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৯ জানুয়ারি দিনটি নির্ধারণ করা হয়।
মামলার ১৩ আসামির মধ্যে বর্তমানে তিনজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
পলাতক থাকা ১০ আসামির মধ্যে পাঁচজন বিভিন্ন সময়ে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা হলেন— লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।
অন্য পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।
প্রসিকিউশনের আনা পাঁচটি অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এসব ঘটনা সংঘটিত হয়। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ওই সময়ে মোট ২৬ জনকে গুম করা হয় এবং তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।