
পদ্মা সেতু নির্মাণে বিপুল ব্যয়ের প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে—এমন দাবি করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন। তাঁর বক্তব্য, সেতুতে এত অর্থ ব্যয় না করে যদি সেচ (ইরিগেশন) খাতে বিনিয়োগ করা হতো, তাহলে চালের দাম অন্তত ৫ টাকা কম রাখা সম্ভব হতো; বরং এখন সেতুর দায় পরিশোধ করতে গিয়ে চালের দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নেত্রকোনার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গণভোট বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে উদ্বৃত্ত তৈরি করা না গেলে তা টিউমারের মতো সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, যা কোনো সরকারই দীর্ঘদিন বহন করতে পারে না। তাঁর মতে, যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, নাগরিকদের দাবি তোলার সময় দেখতে হবে রাষ্ট্রের ব্যয়ের উদ্বৃত্ত আছে কি না। তা না হলে শেষ পর্যন্ত নাগরিকরাই প্রতারিত হন।
তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা সরকার প্রয়োজন ছাড়াই বড় বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তাঁর ভাষায়, অধিকাংশ স্থলবন্দরের বাস্তব প্রয়োজন ছিল না এবং সেগুলোর কার্যকারিতাও প্রশ্নবিদ্ধ। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশ ইতোমধ্যে খরচ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
শেখ বশির উদ্দীনের মতে, ওই সরকারের প্রধান লক্ষ্য ছিল ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি বাড়ানো; ব্যয়ের মাধ্যমে আয় বাড়ানোর বাস্তব পরিকল্পনা সেখানে অনুপস্থিত ছিল। ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যয় বাড়াতে একের পর এক বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বিপরীতে, অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে আয়ের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়লে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল হবে, যা নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করবে। তাঁর কথায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যে দলের জনসমর্থন বেশি থাকবে, তারাই নির্বাচনে বিজয়ী হবে।
তিনি আরও বলেন, আগের তিনটি নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা পদে থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ভোটার উপস্থিতি থাকল কি না—তা কার্যত কোনো প্রভাব ফেলেনি; নামমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার বহাল ছিল। এমন নির্বাচন ব্যবস্থা না চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।