
চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে আপাতত কোনো আইনি বাধা নেই। হাই কোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিতের আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় এ অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
বুধবার (২৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীনের করা অন্তর্বর্তীকালীন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
আদালতে নুরুল আমীনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আহসানুল করিম ও এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, জামায়াতের প্রার্থী এমন একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চেয়েছিলেন, যাতে সরোয়ার আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে না পারেন। তবে এরই মধ্যে হাই কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ায় ওই অন্তর্বর্তীকালীন আবেদন আর প্রয়োজনীয়তা হারিয়েছে। সে কারণেই আদালত আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, হাই কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত আপিল করার সুযোগ আবেদনকারীর রয়েছে। তবে আপিল না হওয়া পর্যন্ত কিংবা সর্বোচ্চ আদালত থেকে কোনো স্থগিতাদেশ না আসা পর্যন্ত হাই কোর্টের রায় কার্যকর থাকবে। ফলে সরোয়ার আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে পারবেন।
অন্যদিকে আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী জানান, হাই কোর্টের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর তারা নিয়মিত আপিল দায়ের করবেন।
মামলার সূত্র অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছিলেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন। সেই আপিলের পর নির্বাচন কমিশন সরোয়ারের মনোনয়ন বাতিল করে।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন সরোয়ার আলমগীর। প্রাথমিক শুনানিতে আদালত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। পরে আপিল বিভাগ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিলেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের ফলাফল প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সরোয়ার আলমগীর ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুহাম্মদ নুরুল আমীন পান ৬২ হাজার ১৬০ ভোট। তবে আদালতের নির্দেশনার কারণে দীর্ঘ সময় ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণ স্থগিত ছিল।
পরবর্তীতে ফলাফল প্রকাশ ও শপথ গ্রহণের অনুমতি চেয়ে আবেদন করলে গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ মামলাটি দুই সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়ে হাই কোর্টে ফেরত পাঠান।
এরপর গত ৯ জুলাই হাই কোর্ট চূড়ান্ত রায়ে নির্বাচন কমিশনের মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন। একই দিন নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে এবং তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে হাই কোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত এবং সরোয়ার আলমগীরের সংসদীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে গত ১২ জুলাই আপিল বিভাগে অন্তর্বর্তীকালীন আবেদন করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন। বুধবার সেই আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় আপাতত সরোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনে কোনো আইনি বাধা থাকল না।