
গ্রিসের উপকূলে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ২০০ জনের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির কোস্টগার্ড। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই বাংলাদেশ ও সুদানের নাগরিক। এছাড়া তাদের মধ্যে মিসরের নাগরিকও রয়েছেন।
গ্রিক সংবাদমাধ্যম ডিমোক্রেটিয়া–এর বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, লিবিয়ার উপকূল থেকে ছেড়ে আসা একাধিক নৌকায় করে ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ে অন্তত ২০২ জন অভিবাসী গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে পৌঁছান। এতে দ্বীপটির অস্থায়ী অভিবাসী অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
ডিমোক্রেটিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূল রক্ষাকারী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি বিমান ক্রিটের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আইয়েরাপেত্রা এলাকায় ৪০ জন অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা শনাক্ত করে। পরে খবর পেয়ে গ্রিক কোস্টগার্ড ও একটি মাছ ধরার ট্রলার যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে তাদের আইয়েরাপেত্রা বন্দরে নিয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে তাদের পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চলছে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই পৃথক দুটি নৌকা থেকে আরও ১১২ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। প্রথম নৌকাটিতে থাকা ৫৬ জনের মধ্যে ৩১ জন সুদানের এবং ২৫ জন বাংলাদেশের নাগরিক। অন্যদিকে দ্বিতীয় নৌকায় থাকা ৫৬ জনের মধ্যে ৪৭ জন বাংলাদেশি এবং বাকি ৯ জন মিসরের নাগরিক।
উদ্ধার হওয়া সবাইকে হেরাক্লিয়ন বন্দরের একটি অস্থায়ী আবাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। দ্বীপটিতে ক্রমাগত অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় কেন্দ্রটি তাদের সাময়িক আশ্রয়ের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
এদিকে পৃথক এক বিবৃতিতে গ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৫০ জন অভিবাসী পাচারের অভিযোগে ১৬ বছর বয়সী এক দক্ষিণ সুদানি কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইয়েরাপেত্রার প্রায় ২৮ দশমিক ৫ সামুদ্রিক মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে পরিচালিত একটি উদ্ধার অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ওই কিশোর প্রতিজনের কাছ থেকে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার মার্কিন ডলার নিয়ে লিবিয়ার তোবরুক শহর থেকে তাদের গ্রিসে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেছিল।