
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক নৌ জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলোর অনীহার কারণে সেই উদ্যোগ এখন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক নৌ জোট গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শুরুতে অধিকাংশ দেশ সরাসরি এতে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ না দেখালেও যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়টি খোলা রেখেছিল।
এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা দেন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স একটি আন্তর্জাতিক নৌ মিশনের নেতৃত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। সে সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই মিশন হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও প্রতিরক্ষামূলক।
এর পরের মাসে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মিশনে ড্রোন, যুদ্ধবিমান এবং একটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হবে। একই সঙ্গে দাবি করা হয়, বিশ্বের কয়েক ডজন দেশ এই উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে। তবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও সেই পরিকল্পনা এখনো বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
সম্প্রতি ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুরোপুরি একমত। তবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নৌ মিশনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নির্ভর করবে মাঠের পরিস্থিতি এবং একটি টেকসই রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর।
আল-জাজিরাকে দেওয়া বিশ্লেষকদের মন্তব্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় দেশগুলো এমন কোনো সংঘাতে জড়াতে চায় না, যার সূচনা তারা করেনি এবং যার পক্ষে শুরু থেকেই তারা সরাসরি অবস্থান নেয়নি।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক এইচএ হেলিয়ার বলেন, ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্য বা ফ্রান্সের বিশেষ আগ্রহ নেই। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগের স্পষ্ট দাবি না থাকলে তারা এর নেতৃত্ব নিতে চাইবে না।
কিংস কলেজ লন্ডনের প্রতিরক্ষা অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক আমজাদ রশিদ বলেন, ইউরোপের অংশগ্রহণ হলেও তা হবে সীমিত, শর্তসাপেক্ষ এবং পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক। তাঁর মতে, ইউরোপের পূর্ব সীমান্তে রাশিয়াকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের প্রধান লক্ষ্য উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় দেশগুলো এমন কোনো নিরাপত্তা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে চায় না, যেটিকে আঞ্চলিক দেশগুলো অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টিকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, হরমুজ প্রণালিতে সীমিত পরিসরে একটি প্রতিরক্ষামূলক নৌ উপস্থিতি গড়ে তোলার সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। তাদের মতে, এমন কোনো মিশন গঠিত হলে এর মূল উদ্দেশ্য হবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে আস্থা সৃষ্টি এবং নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করা। বড় ধরনের সামরিক নিরাপত্তা অভিযানে এটি রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।
সূত্র: আল-জাজিরা