
কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় এলপিজি গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় পাম্প মালিক নুরুল আলম ওরফে এন আলমের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিস্ফোরক পরিদপ্তর।
সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ছমি উদ্দিন।
তিনি জানান, চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন। রামু উপজেলার নুরুল আলমকে একমাত্র আসামি করে মামলা করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে— গ্যাস পাম্পটি স্থাপনের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিপত্র, পরিবেশ অধিদপ্তরের সনদ, ফায়ার সার্ভিসের অনুমতিপত্র এবং বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স নেওয়া হয়নি। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই স্থাপনা পরিচালনা করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়।
২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। কর্মচারীরা প্রথমে বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। আগুন আশপাশের ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় ৩০টি যানবাহন, চারটি বসতবাড়ি ও বিভিন্ন অবকাঠামো পুড়ে যায়। অন্তত ১৫ জন দগ্ধ হন।
গুরুতর আহত ছয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ এস খালেদ জানান, আহতদের মধ্যে আবু তাহেরের শরীরের ৯০ শতাংশ, রহিমের ৫০ শতাংশ, সিরাজের ৪০ শতাংশ, সাকিবের ৩০ শতাংশ এবং মেহেদি ও মোতাহেরের ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
দগ্ধ অটোরিকশাচালক আবু তাহের (৪২) তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি কক্সবাজার শহরের কলাতলী আদর্শ গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে।
আদর্শ গ্রাম সমাজ কমিটির সভাপতি নছির উদ্দিন জানান, সোমবার বিকালে ঢাকা থেকে ময়নাতদন্ত শেষে আবু তাহেরের মরদেহ কক্সবাজারের উদ্দেশে নিয়ে রওনা হয়েছেন স্বজনরা।
ওসি মো. ছমি উদ্দিন বলেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন একজনের মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশ অবহিত হয়েছে। মরদেহ কক্সবাজারে পৌঁছানোর পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।