
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা পরিচালনার জন্য ১৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় গত ১৪ জানুয়ারি এই প্রশাসন গঠন করা হয়।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) মিডল ইস্ট আই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নতুন প্রশাসনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধপরবর্তী অন্তর্বর্তী সময়ে এই সংস্থা গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে। অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ অগ্রসর করতে ওয়াশিংটন এই কাঠামো গঠন করেছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক গভর্নমেন্ট’ নামে পরিচিত এই প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক নাম হবে ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা। এটি একটি অস্থায়ী প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবে, যার মূল লক্ষ্য গাজায় দীর্ঘ যুদ্ধের পর স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
এই টেকনোক্র্যাট সরকার আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধায়ক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে, যার নাম বোর্ড অব পিস। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি নিজেই বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকবেন এবং শিগগিরই অন্যান্য সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরের সময় ইসরাইল ও হামাস নীতিগতভাবে এই কাঠামোয় সম্মতি দিলেও বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ও প্রাযুক্তিক জটিলতা এখনো রয়ে গেছে। যুদ্ধবিরতির পর থেকে পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে।
অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৪৪০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শতাধিক শিশু রয়েছে। একই সময়ে তিনজন ইসরায়েলি সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন।
গাজা-মিসর সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় চালু করতে ইসরায়েলের দেরি, হামাসের অস্ত্র ত্যাগে অস্বীকৃতি এবং ইসরায়েলি বন্দিদের মরদেহ সংক্রান্ত অমীমাংসিত বিষয়গুলো উত্তেজনা বাড়িয়েছে। যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে অগ্রসর হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মতে, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পরিধি এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের বিষয়গুলো এই পর্যায়ের মূল আলোচ্য বিষয়। ট্রাম্প জানিয়েছেন, মিসর, কাতার ও তুরস্ক হামাসের সঙ্গে একটি ‘সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি’ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখবে।
মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো মিসর, কাতার ও তুরস্ক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, নতুন ফিলিস্তিনি শাসন কমিটিতে ১৫ জন সদস্য থাকবেন। এর নেতৃত্ব দেবেন আলি শাথ, যিনি পশ্চিমা সমর্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপমন্ত্রী। তিনি শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় নেতা নন।
তবে প্রস্তাবিত শাসন কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক বোর্ড বিদেশি শাসনের রূপ নিতে পারে, যা ফিলিস্তিনিদের আত্মশাসনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়া গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা না থাকায় সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের শেষ দিকে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানে ৬০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের তদন্তসহ একাধিক মানবাধিকার সংস্থা এই অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা ইসরাইল প্রত্যাখ্যান করে আত্মরক্ষার যুক্তি তুলে ধরছে।