
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর এক পক্ষের নেতা-কর্মীরা হেয়াকো-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের হেয়াকো এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ রয়েছে। এর একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর। অন্য পক্ষটি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আজিম উল্লাহ বাহারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার রাতে বাগান বাজার সিকদার ঘাটা বাজারের একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে যান মোহাম্মদ কবির ও নাছির উদ্দিন। নাছির উদ্দিন সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে মোহাম্মদ কবিরের অবস্থান আজিম উল্লাহ বাহারের পক্ষে। রেস্তোরাঁয় ঢোকার পর দুজনই আগে খাবার পরিবেশনের জন্য কর্মীদের বলেন।
এ নিয়ে রেস্তোরাঁর কর্মীদের সঙ্গে প্রথমে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কবির ও নাছির মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা সেখানে জড়ো হন। পরে তাদের মধ্যেও সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষের পর নাছির উদ্দিনের অনুসারীরা হেয়াকো-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে প্রায় এক ঘণ্টা সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ঘটনা সম্পর্কে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আজিম উল্লাহ বাহার অভিযোগ করেন, তার কর্মী মুহাম্মদ কবিরকে সালিস বৈঠকের কথা বলে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে তিনি বলেন, নাছির উদ্দিন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুজনের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে কোনো পক্ষের বিরোধের সম্পর্ক নেই। ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর ও বিএনপি নেতা আজিম উল্লাহ বাহারের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এর পর সংসদ সদস্যের সমর্থকেরা সড়ক অবরোধ করেন।
তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে আধা ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সঙ্গে অবরোধ তুলে দিয়ে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।