
ভারতের কেরালা রাজ্যে আর্থিক সংকট ও ঘরভাড়া পরিশোধে অক্ষমতার জেরে এক পরিবারের সদস্যদের নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার আশঙ্কা করছে পুলিশ। ইতোমধ্যে বাবা, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মা ও দুই বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের আরও এক কন্যাসন্তান এখনও নিখোঁজ রয়েছে।
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার মুভাত্তুপুঝা নদী থেকে এক ব্যক্তি, তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী স্ত্রী এবং দুই বছর বয়সী শিশুসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাড়িভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে পুরো পরিবার নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
এ ঘটনায় পরিবারের বড় মেয়েটি এখনও নিখোঁজ রয়েছে। তাকে উদ্ধারে উদ্ধারকারী দলের অভিযান অব্যাহত আছে।
স্থানীয় পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে পিরাভম এলাকার কাছে মুভাত্তুপুঝা নদীতে প্রথম দুটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মুভাত্তুপুঝা এলাকার বাসিন্দা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারী ভিজি এবং তার দুই বছর বয়সী শিশুসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে।
এরপর ভিজির স্বামী নারায়ণের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় পুলিশ। পরে শনিবার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহায়তায় নদীতে তল্লাশি চালিয়ে নারায়ণের মরদেহও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, নারায়ণের বাড়ি ছিল পালক্কাড় এলাকায়। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে কোঠামঙ্গলম অঞ্চলের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারটিকে কয়েক দিন আগে পিরাভম এলাকায় একসঙ্গে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল। প্রথমে মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর নারায়ণ ও তার বড় মেয়ের অবস্থান সম্পর্কে আত্মীয়স্বজনরাও কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
তদন্তে উঠে এসেছে, সম্প্রতি বাড়িভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে নারায়ণ ও তার পরিবার কোঠামঙ্গলম থানা পুলিশের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছিলেন। মানবিক বিবেচনায় স্থানীয় পুলিশ তাদের জন্য কম খরচের একটি বিকল্প বাসস্থানেরও ব্যবস্থা করেছিল, যেখানে আগামী রোববার তাদের ওঠার কথা ছিল।
এ ছাড়া পিরাভম এলাকার একটি রেস্তোরাঁর সিসিটিভি ফুটেজে গত বৃহস্পতিবার পুরো পরিবারকে একসঙ্গে রাতের খাবার খেতে দেখা গেছে।
এ ঘটনায় পিরাভম থানা পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধার হওয়া তিনটি মরদেহ স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিখোঁজ বড় মেয়েটির সন্ধানে শনিবার রাতে আলোর স্বল্পতার কারণে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলেও রোববার সকাল থেকে আবারও নদীতে তল্লাশি শুরু হয়েছে।