
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার দিঘিরপাড় ইউনিয়নের সাতগাঁনি এলাকার ঋষিপাড়ার বাসিন্দা নিহত নুমুজ আলী হত্যা মামলার সুষ্ঠু বিচার, প্রকৃত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় নিহত নুমুজ আলীর নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের মেয়ে ঋতু আক্তার অভিযোগ করে বলেন, প্রায় এক বছর আগে তার বাবা নুমুজ আলীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ঋষিপাড়ার কয়েকজন জড়িত থাকলেও তদন্তে প্রকৃত আসামিদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, মামলার অভিযোগপত্রে যাদের নাম থাকার কথা, তাদের কয়েকজনকে বাদ দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। অন্যদিকে, মামলার কয়েকজন আসামি জামিনে বের হয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। মামলা প্রত্যাহার না করলে তাকেও তার বাবার মতো হত্যা করা হবে বলে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এ কারণে তিনি নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।
ঋতু আক্তার বলেন, "আমার বাবা একজন দিনমজুর ছিলেন। তার উপার্জনেই আমাদের সংসার চলত। বাবাকে হারিয়ে আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমি অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছি। যারা আমার বাবার হত্যার সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকেই যেন আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে না দেওয়া হয়।"
তিনি অভিযোগ করেন, নিদু ঋষি দাস, ললি ঋষি দাস, বরুন ঋষি দাস, সুমন ঋষি দাস, বিবেক ঋষি দাস, দীপক ঋষি দাস, শান্তি ঋষি দাস, ওকাল ঋষি দাস ও স্বদেশ ঋষি দাসের নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্বজনরা বলেন, নুমুজ আলী একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তারা এ ঘটনায় জড়িত সকলের ফাঁসির দাবি জানান এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৫ জুলাই আসামিরা লাঠিসোঁটা, রামদা ও লোহার রড নিয়ে নুমুজ আলীর বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে তার ওপর হামলা চালায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।