
কলাপাড়ায় একটি সরকারি বিদ্যালয়ের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদ্যালয়ের রেকর্ডভুক্ত জমির একটি অংশ দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি। তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে কাফির দাবি, আদালতের রায়ে স্বীকৃত প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকেই তিনি জমি কিনেছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য সামনে আসে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে বিদ্যালয়ের জমির ওপর রাস্তা নির্মাণ করা হয়। এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে প্রধান শিক্ষককে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে ক্রয় করা মোট ৪০ একর ৬৪ শতাংশ জমির মধ্যে রজপাড়া মৌজার ২১ একর ৭৬ শতাংশ জমির খাজনা ১৪৩২ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের পর সরকারি বিধি অনুযায়ী জমিগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নামে হস্তান্তর করা হয়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সিক্স লেন সড়কের উত্তর পাশে রেকর্ডভুক্ত প্রায় ৬ শতাংশ জমি দখল করে সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। ওই স্থানের পাশেই নুরুজ্জামান কাফির মালিকানাধীন জমি রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম বলেন, ‘প্রায় এক সপ্তাহ আগে রাতের আঁধারে নুরুজ্জামান কাফি বিদ্যালয়ের প্রায় ৬ শতাংশ জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেন। আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদের জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়। জমি উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নুরুজ্জামান কাফি বলেন, ‘আমার কেনা জমিতে যাওয়ার কোনো রাস্তা ছিল না। তাই প্রথমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে ওই জমি কেনার প্রস্তাব দিই। তিনি জানান, বিদ্যালয়ের জমি বিক্রির এখতিয়ার তার নেই এবং শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরে জানতে পারি, মোবারক পঞ্চায়েতের উত্তরাধিকারীরা উচ্চ আদালতের রায়ে জমির মালিকানা পেয়েছেন। তাদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে কিনে দখল বুঝে নিই। এরপর সেখানে রাস্তা নির্মাণ করেছি। আমি কোনো জমি দখল করিনি। প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকেই জমি কিনেছি। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।’
এ বিষয়ে সালাউদ্দিন নয়ন পাহলান বলেন, ‘আমাদের পরিবারের সঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রায় ৩০ বছরের মামলা চলছিল। পরে পটুয়াখালী আদালত এবং ২০২৫ সালের জুনে সুপ্রিম কোর্ট আমাদের পক্ষে রায় দেন। এরপর নুরুজ্জামান কাফির যাতায়াতের সুবিধার জন্য ৬ শতাংশ জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। আদালতের রায় অনুযায়ী জমির প্রকৃত মালিক আমরা উত্তরাধিকারীরাই।’
তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো দাবি করছে, সংশ্লিষ্ট জমি বিদ্যালয়ের রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি এবং সেটি উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।