
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে অতীতের বিতর্কিত ভোটের সঙ্গে তুলনা না করে এটিকে ফ্যাসিবাদবিরোধী এক যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এ নির্বাচন ২০১৮ বা ২০২৪ সালের মতো নয়; এটি ফ্যাসিবাদকে লাল কার্ড দেখানোর এবং জুলাই যোদ্ধাদের প্রত্যাশা পূরণের নির্বাচন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া গোল চত্বরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১১ দলীয় জোট রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে সর্বস্তরে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা হবে। ন্যায়বিচার কায়েম করাই হবে তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সবকিছু ক্ষমা করা হলেও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে।
জামায়াত আমির আরও বলেন, গত ৫৪ বছরে দফায় দফায় যে রাজনীতি ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে, এই নির্বাচন সেই পচে যাওয়া রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে বিদায় জানানোর উপলক্ষ। তাঁর ভাষায়, “ইনশাআল্লাহ ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ লাল কার্ড দেখাবে। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশবাসী নতুন একটি বাংলাদেশ পাবে।”
নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরে তিনি জানান, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে নারীদের মাস্টার্স পর্যন্ত বিনা খরচে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে। ইনসাফের ভিত্তিতে ন্যায় প্রতিষ্ঠাই হবে সরকারের মূল কাজ। নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে গোপনে ষড়যন্ত্র হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পেছনের লোকেরা পেছনে পড়ে থাকবে, আমরা ক্ষমতায় গেলে নারীদের মাথার উপর করে রাখা হবে।”
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় এবং জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ নূর আহমদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা বক্তব্য রাখেন।