
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ফেনী-৩ আসনে দলের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, একটি দল ক্ষমতায় গেলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করবে এবং দেশকে সংঘাতের পথে ঠেলে দিতে পারে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফেনীর দাগনভুঞার দুলামিঞা কটন মিলে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেজর জিয়াউর রহমানকে বাদ দিয়ে অন্য একজনকে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঢাকা-১৭ আসনে তাদের এক এমপি প্রার্থীর সেনাবাহিনীর সঙ্গে আচরণের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব ঘটনাই প্রমাণ করে তারা ক্ষমতায় গেলে “মারামারি করে দেশকে আফগানিস্তানের মত বানিয়ে ফেলবে।”
দেশের চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সংকটময় সময়ে বিএনপি ছাড়া উত্তরণের আর কোনো সহজ পথ নেই। তাঁর ভাষায়, আজ দেশের সামনে দুটি পথ—একটি সংঘাতের, অন্যটি ঐক্যবদ্ধ সমাজ গঠনের। তিনি বলেন, “আমরা আফগানিস্তানের মতো পরিস্থিতি চাই না, আমরা চাই সমৃদ্ধি।” সমাজের বড় একটি অংশকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ এগোবে নাকি হানাহানির দিকে যাবে—তা নির্ধারণ করবে আসন্ন নির্বাচনই।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে মিন্টু বলেন, তিনি ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দিলেও দাগনভুঞায় তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দলমত নির্বিশেষে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে এসেছে। এলাকায় কখনো আওয়ামী লীগ-বিএনপি বিভাজন করেননি বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, উন্নয়নের জন্য ঐক্য অপরিহার্য, আর অতীতের দ্বন্দ্বে আটকে থাকলে ভবিষ্যতের পথচলা থেমে যায়। তাই অতীতের ভেদাভেদ ভুলে আগামীর সমৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ভোটারদের উদ্দেশে আবেগঘন আহ্বান জানিয়ে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাঁকে জয়ী করলে তিনি বাকি জীবন জনগণের সেবায় উৎসর্গ করবেন। তিনি বলেন, “আমি আপনাদের বন্ধু ও সাথী হিসেবে পাশে থাকতে চাই।” দেশকে নিজেরাই উন্নয়ন করতে না পারলে তা বড় ব্যর্থতা হবে উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের একবার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান।
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই মতবিনিময় সভায় শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। একই দিনে আবদুল আউয়াল মিন্টু দাগনভুঞা উপজেলার বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের সঙ্গেও বৈঠক করেন এবং পরে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত আরেকটি সভায় অংশ নেন।