
ইতিহাসের এক অদ্ভুত ও ভয়ঙ্কর পুনরাবৃত্তি দেখল বিশ্ব; যে হোটেলের ফটকে একসময় রক্তাক্ত হয়েছিলেন রোনাল্ড রিগান, সেখানেই এবার বন্দুকধারীর নিশানায় পড়লেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির বিখ্যাত ‘ওয়াশিংটন হিলটন’ হোটেলে আয়োজিত হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে এই হামলার মুখে পড়েন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সিক্রেট সার্ভিসের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় তিনি ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প অক্ষত অবস্থায় নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সক্ষম হন। এই ঘটনাটি চার দশক আগে একই স্থানে ঘটে যাওয়া সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের ওপর সেই প্রাণঘাতী হামলার স্মৃতিকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
শনিবার রাতের সেই রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত
কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এক সশস্ত্র ব্যক্তি শটগান নিয়ে হোটেলের নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করার চেষ্টা চালায় এবং একপর্যায়ে গুলি বর্ষণ করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা দ্রুত ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বেষ্টন করে সরিয়ে নেন। হামলাকারীর গুলিতে এক এজেন্ট আক্রান্ত হলেও সুরক্ষামূলক বুলেটপ্রুফ পোশাক থাকায় তিনি অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান। ৪৪ বছরের ব্যবধানে একই হোটেলে দুই মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর এমন হামলার ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় ধরণের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
১৯৮১ সালের সেই অভিশপ্ত ৩০ মার্চ
বর্তমান এই হামলাটি সবাইকে ১৯৮১ সালের ৩০ মার্চের সেই রক্তক্ষয়ী দুপুরে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। সেদিন ঠিক এই ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলের বাইরেই আততায়ী জন হিঙ্কলি জুনিয়রের গুলিতে বিদ্ধ হয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪০তম প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান।
রোনাল্ড রিগান প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরির নথি অনুযায়ী, সেদিন এএফএল-সিআইওর একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য শেষ করে বের হচ্ছিলেন রিগান। ঠিক তখনই হিঙ্কলি তার ২২ ক্যালিবার রিভলভার থেকে ছয়টি বুলেট ছোড়েন। একটি গুলি লিমুজিন গাড়িতে লেগে ছিটকে রিগানের বাম বগলের নিচে বিদ্ধ হয়। এতে তার ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হয়। প্রথমে কেউ বুঝতেই পারেনি যে প্রেসিডেন্ট গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, কিন্তু কাশির সঙ্গে রক্ত আসতে শুরু করলে তাকে দ্রুত জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। ১২ দিন যমে-মানুষে লড়াই করার পর তিনি সুস্থ হয়ে হোয়াইট হাউসে ফিরতে পেরেছিলেন।
ভাগ্যের এক অদ্ভূত মিল
১৯৮১ সালের সেই হামলায় তৎকালীন প্রেস সেক্রেটারি জেমস ব্র্যাডি, সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট টিমোথি ম্যাকার্থি এবং পুলিশ অফিসার টমাস ডেলাহান্টিও গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
কাকতালীয়ভাবে, একই হোটেলে এবং প্রায় একই ধরণের পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের দুই শীর্ষ নেতা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসলেন। রিগান যেখানে সরাসরি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর জখম হয়েছিলেন, সেখানে ট্রাম্প এবার অক্ষত থাকলেন। তবে এই জোড়া হামলার ঘটনা ‘ওয়াশিংটন হিলটন’ হোটেলটিকে মার্কিন রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভিশপ্ত ও স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে গেঁথে দিল।